বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

সোমালিয়ায় হোটেলে জঙ্গি হামলা, নিহত ১৩

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২২, ২১:১২

সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে আল কায়দা ঘনিষ্ঠ জঙ্গিরা একটি হোটেলে হামলা চালিয়েছে। বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হোটেলে ঢুকে বেশ কয়েকজনকে তারা বন্দি করে। তাদের মুক্ত করতে কর্তৃপক্ষ প্রায় ২০ ঘণ্টা চেষ্টা করে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। 

জঙ্গিরা শুক্রবার সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুর একটি হোটেলে ঢুকে প্রথমে বিস্ফোরণ ঘটায়। হায়াত হোটেলে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় তারা। এর আগে দুটি বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে  হামলা করে জঙ্গিরা। বেশ কয়েকজনকে তারা বন্দি করে রাখে।

সোমালিয়ার আল শাবাব জঙ্গিগোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তা মোহাম্মদ স্থানীয় সময় শনিবার সকালে বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘‘এখন পর্যন্ত আমরা ১২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করতে পারছি, তারা সবাই সাধারণ মানুষ।'' তবে পরে আরো একজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে আশঙ্কা রয়েছে।

জঙ্গিরা হোটেলের তিন তলায় বেশ কয়েকজনকে পণবন্দি করে রেখেছিল। তবে তাদের সংখ্যা নিশ্চিত করে জানা যায়নি।

আল কায়দা সমর্থিত জঙ্গিরা হোটেলের সিঁড়ির একাধিক অংশ বোমার আঘাতে উড়িয়ে দেয় যাতে সেখান থেকে বন্দিদের উদ্ধার কঠিন হয়। এসময় গোটা হোটেল ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সাতটাতেও গুলির শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণের কারণে এমনকি রাস্তায় ফাটল ধরে যায়।

পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনী হোটেলটি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। গ্রেনেড ছুড়ে হোটেল থেকে বন্দিদের উদ্ধারের চেষ্টা করে তারা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের সংঘর্ষে হোটেলের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। হোটেল থেকে কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়।

গত মে মাসে হাসান শেখ মোহাম্মদস দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। তারপর এটি সবথেকে বড় হামলা বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

আল কায়দা-সংশ্লিষ্ট আল শাবাব গোষ্ঠী ঘটনার দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে অনলাইনে জিহাদি সংগঠনগুলোর কার্যকর নজরদারি প্রতিষ্ঠান সাইট ইন্টিলেজেন্স গ্রুপ। ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আল শাবাব সোমালি সরকার পতনের জন্য লড়াই করছে। সরকার উৎখাত করে দেশটিতে শরিয়তি আইন প্রতিষ্ঠা করতে চায় তারা।

সোমালিয়ার আইনপ্রণেতা, সরকারি কর্মকর্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছে জনপ্রিয় ও নিরাপদ জায়গা হিসেবে পরিচিত ছিল হায়াত হোটেল। তাদের মধ্যে কেউ হোটেলটিতে বন্দি ছিলেন কি না, সেটি এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। 

ইত্তেফাক/এসআর