সাগরে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। রুপালি ইলিশে জেলেদের মুখে হাসি ফুটেছে। প্রশান্তির হাসি ঐ জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে। বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে মাছের আড়তগুলো। তবে একেবারে ভিন্ন চিত্র ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে। মেঘনা নদীতে কিছু ইলিশ পেলেও তেঁতুলিয়ায় ইলিশ নেই বললেই চলে। সারা দিন জাল বেয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ মাছের দেখা পাচ্ছেন না জেলেরা। অন্যদিকে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আরো নাজুক হয়ে পেড়েছে পরিস্হিতি।
মেঘনার বড় আড়তদার ও শেল্টার বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আবুল কালাম, হাকিমুদ্দিন মির্জাখীল ঘাটের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মাঝি, তেঁতুলিয়া নদীর নয়নের খালের জুয়েল মেম্বার, কালাম বদ্দার জানান, দাদনের লাখ লাখ টাকা নদীর জলে। নদীতে মাছ নেই। মহাসংকটে আমরা। তারা বলেন, এই অবস্হা চলতে থাকলে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ জেলে পেশা পরিবর্তন করবে। জেলে জামাল ও শহিদুল, জাহাঙ্গীর, নেজামাল বলেন, এ বছর ভরা মৌসুমেও মেঘনায় তেঁতুলিয়ায় ইলিশের দেখা মেলেনি। তবুও আমরা অপেক্ষায় ছিলাম। নদীতে মাছ ধরা পড়ার। কই ? এখনো তো মিলছে না ইলিশ। তেঁতুলিয়া নদীর অবস্হা আরো করুণ।
বোরহানউদ্দিনের বেশ কয়েকটি আড়ত ঘুরে জানা যায়, খুব কম পরিমাণ মাছ কেনাবেচা হচ্ছে। মাছ বিক্রি করে যে টাকা পাচ্ছে তা দিয়ে জেলেদের খরচপাতি চালানো মুশকিল।
আড়তদার মাসুদ রানা, সমরাজঘাটে অবস্হানরত তেঁতুলিয়ার জেলে সিরাজ বদ্দার বলেন, নদীতে ইলিশ ধরা না পড়লেও সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে পড়ছে। আল্লাহর রহমতে মাছ পাওয়া যায়। সাইজেও বড়। হেজু মাঝি জানান, সাগরে ইলিশ আছে। তবে সাগর উত্তাল। বাংলাদেশ জাতীয় মত্স্যজীবী সমিতির বোরহানউদ্দিন উপজেলার সভাপতি শাহে আলম ও ক্ষুদ্র মত্স্যজীবী সমিতির সভাপতি আবু সাঈদ মাঝিও জানান, সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। তবে নদীতে মাছ খুবই কম।
বোরহানউদ্দিন উপজেলার সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা মো. আলি আহমেদ আকন্দ বলেন, ইলিশ সাগরের মাছ। ডিম পাড়ার সময় মিঠা পানির খোঁজে তারা নদীতে আসে। বর্তমানে নদীর পানিতে লবণাক্ততা বেশি। তাই সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ থাকলেও নদীতে ইলিশ নেই। তবে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে নদীতেও মাছ মিলবে বলে আমরা আশাবাদী।
