তালায় চারু বিক্রি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২২, ১২:৪৭

বর্ষাকাল শেষ হলেও পর্যাপ্ত বর্ষার দেখা নেই। এখন শরৎ কাল চলছে। বৃষ্টির অভাবে কৃষকরা ধান লাগাতে পারছে না। অন্যদিকে ঘের মালিকরা বর্ষার অভাবে ঘেরে মাছ ছাড়তে না পারায় মাছ মারা চারুগুলো তৈরি করে বিপাকে পড়েছে চারু ব্যবসায়ীরা।

তালার দলুয়া বাজারে গেলে চোখে পড়ে প্রভাস দাশ নামে এক ব্যক্তি চারু তৈরি করে দোকানের সামনে সাজিয়ে রেখেছে। তিনি বলেন, ‘চারু বিক্রি করেই তিনি সংসার চালান। বর্তমানে পর্যাপ্ত বর্ষা নেই। চারু তৈরি করে শুধু পাহারা দিচ্ছি, কোনো বিক্রি নেই। চাল, ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্রের যা দাম তাতে করে সংসার আর চলছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘তৈলকুপি হতে দলুয়া বাজারে এসেছি প্রায় ১২/১৩ বছর হয়েছে। কিন্তু এ বছর পর্যাপ্ত বর্ষা নেই। যার কারণে ঘের মালিকরা ঘেরে মাছ দিতে পারছে না। এ কারণে তারা চারু কিনছেন না। বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও ২ ছেলে-মেয়ে মিলে ৫ জনের সংসার চালাতে হিমশিম পোহাতে হচ্ছে।’

মাদরা গ্রামের চারু ব্যবসায়ী সুব্রত মণ্ডল বলেন, গ্রাম থেকে বাঁশ কিনে তারা মাছধরা আটন (চারু) তৈরি করেন। বর্তমানে একটি বাঁশের দাম ৪-৫শত টাকা। প্রতিদিন ৫-৬টি করে আটন (চারু) তৈরি করেন তারা। এগুলো বেশিরভাগ ঘের মালিকদের কাছে বিক্রি করে তার সংসার চলে। কিন্তু এ বছর পর্যন্ত বৃষ্টি না হওয়ায় চারু বিক্রি হচ্ছে না। এ কারণে বিপাকে পড়েছেন তারা।

তিনি আরও বলেন, এখানে বিভিন্ন রকমের চারু তৈরি হয়। তার মধ্যে টেংরা মাছ মারা আটনের(চারু) দাম জোড়া ৩শত টাকা। হরিণা চিংড়ি মাছ মারা আটন জোড়া ৩৫০ টাকা। বাগদা মাছ মারা আটন জোড়া ৫-৬শত টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

ঘের মালিক প্রসাদ সরদার, নিশিথ রায়, কবির হোসেনসহ কয়েকজন বলেন, এবছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় তাদের ঘেরের অবস্থাও বেশি ভাল না। ঘেরে মাছও তেমন পড়ছে না। তাই চারু কেনা হচ্ছে না। তবে কয়েকদিন পরে চারুর চাহিদা বেড়ে যাবে।

তালা উপজেলা কৃষি অফিসার হাজিরা খাতুন বলেন, সময় মতো বৃষ্টি না হওয়ায় চারু ব্যবসায়ীসহ কৃষকরা বিপাকে পড়েছে।

তালা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্নিগ্ধা খাঁ বাবলী বলেন, এ বছর বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মৎস্য ঘেরের পাশাপাশি এর সাথে জড়িতরা বিশেষ করে চারু, নৌকা ও মাছ ব্যবসায়ী বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইত্তেফাক/এমআর