নিউইয়র্ক ভিত্তিক একটি মিডিয়া ওয়াচডগ মার্কিন সাংবাদিক, স্বাধীন চিত্রনির্মাতা আইভর শিয়ারার ও আফগান প্রযোজক ফয়জুল্লাহ ফয়েকবখশকে শিগগিরই মুক্তি দেওয়ার জন্য তালেবানকে আহব্বান জানায়।
গত বুধবার (১৭আগস্ট), শিয়ারার ও ফয়েজবখশ কাবুলের শেরপুর অঞ্চলের ডিসট্রিক্ট-১০ এ ভিডিও ধারণ করছিলেন। এসময় বেশ কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী তাদের থামিয়ে দেয়। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের (সিপিজি) পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়।
এই স্থানেই আগস্টের শুরুর দিকে মার্কিন ড্রোন হামলায় সাবেক আল কায়েদা প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহিরি নিহত হন। তালেবানের ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তারা এই বিষয়টি সাংবাদিক দুইজন সিপিজিকে জানায়।
সিপিজির তথ্যমতে, রক্ষীরা শিয়ারার ও ফয়েজবখশকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তাদের ওয়ার্ক পারমিট, আইডি কার্ড ও পাসপোর্ট পর্যবেক্ষণ করে। এরপরই রক্ষীরা তাদের মোবাইল ফোন আটকে রাখে এবং বারবার তাদের মার্কিন গুপ্তচর হিসেবে আখ্যা দেয়।
এরপর রক্ষীরা নিরাপত্তাকর্মীদের খবর দিলে তারা এসে দুইজনের মুখে কালো কাপড় বেধে অজানা জায়গায় নিয়ে যায়।
সিপিজির প্রোগ্রাম ডিরেক্টর কার্লোস মার্টিনেজ মন্তব্য করেন, সংবাদ মাধ্যমকর্মীদের প্রতি তালেবানদের বর্তমান কর্মকাণ্ড সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ব্যাপারে নিজেদের কথার বরখেলাপ করছে। আটককৃত দুইজনকে শিগগিরই মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানোর পাশাপাশি দেশটির সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ সরিয়ে নিতে দাবি জানান কার্লোস।
ফেব্রুয়ারিতে শিয়ারার আফগানিস্তানে ১ মাসের ভিসায় দেশটির গত ৩০ বছরের ইতিহাস সম্পর্কে একটি প্রামান্যচিত্র তৈরি করতে আসেন। মার্চের ৩ তারিখ শিয়ারার তালেবান শ্রম ও সামাজিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ১ বছরের ওয়ার্ক পারমিট গ্রহণ করেন।
সিপিজি জানায়, জুনের মাঝামাঝি সময় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয় থেকে তাকে তলব করা হয়। মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র আবদুল কাহার বালখি শিয়ারারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
জুলাইর মাঝামাঝি বেশ কয়েকজন তালেবান গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি কাবুলের একটি গেস্ট হাউজে শিয়ারারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রতিবারই জিজ্ঞাসাবাদে তার পূর্বের কর্মকাণ্ড ও তার দেশটিতে অবস্থানের কারণ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।
এ ব্যাপারে শিয়ারার মন্তব্য করেন, এগুলো কি রুটিন চেক আপ নাকি তার উপস্থিতির কারণে তিনি এসব প্রত্যক্ষ করছেন তিনি এখনও নিশ্চিত নন।
গত মঙ্গলবার(আগস্ট ১৬), বালখি আবার শিয়ারারকে তলব করেন। শিয়ারার জানান তিনি এইসব ঘটনা সম্পর্কে চিন্তিত।
এছাড়াও তার ভিসার মেয়াদ বাড়বে না তালেবানরা তাকে দেশ থেকে বের করে দেবে এ ব্যাপারেও চিন্তায় আছেন। সিপিজে ১৬ তারিখের বৈঠকের ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি।
