মাদারীপুরে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে স্কুলভিত্তিক দাবা খেলার প্রতিযোগিতা। মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) মাদারীপুর পুলিশ লাইনের ভেতরে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন। এতে অংশ নিচ্ছে ৫টি উপজেলার স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ১৮টি দল। তৃণমূল পর্যায় থেকে তৈরি হয়ে জাতীয় পর্যায়ে খেলার স্বপ্ন দেখছেন দাবাড়ুরা।
আয়োজকরা বলছেন, নিয়মিত বিভিন্ন রকমের খেলাধুলার আয়োজন করলে সমাজ থেকে দূর হবে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ইভটিজিংসহ সামাজিক অপরাধ। জেলা থেকে অংশ নেওয়া বিজয়ী খেলোয়াড়রা জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পাবে। সারাদেশের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন দল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে পাবে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার।
খেলার মাঠ ঘুরে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে দলে দলে ডাবা খেলায় অংশ নিচ্ছেন ক্ষুদে খেলোয়াড়রা। এই আয়োজন মাদারীপুর পুলিশ লাইনের ভেতরে। প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন। প্রায় ২০ বছর আগে নানা কারণে মাদারীপুরে বন্ধ হয়ে যায় দাবা খেলার প্রতিযোগিতা। সেই পেক্ষাপট ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেয় জেলা ক্রিড়া সংস্থা ও জেলা পুলিশ। জেলার পুলিশ লাইনস্ মাঠে শুরু হয় ডাবা খেলার প্রতিযোগিতা। প্রতিটি দলে থাকছে ৬ জন খেলোয়াড়।
দাবায় অংশ নেওয়া ক্ষুদে খেলোয়াড় সাইমা আক্তার বলেন, ‘দাবা খেলতে গিয়ে প্রথমে বাধার সম্মুখীন হয়েছি। এখন পরিবারের সবাই সাপোর্ট করেন। খুব তৃপ্তি পাই। এখান থেকে জাতীয় পর্যায়ে খেলার স্বপ্ন দেখছি।’
মাদারীপুর জেলা ক্রিড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওবায়দুর রহমান খান বলেন, ‘কৌশল আর বুদ্ধিমত্তার এই খেলা সর্ম্পকে পর্যাপ্ত ধারণা থাকলে ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব। এজন্য সংস্থার পক্ষ থেকে নিয়মিত এই খেলার আয়োজন করা হবে।’
মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার ও দাবা ফেডারেশনের সভাপতি চাইলাউ মারমা বলেন, ‘জেলা থেকে অংশ নেওয়া বিজয়ী খেলোয়াড়রা জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পাবে। সারাদেশের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন দল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে পাবে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার, যা অনুষ্ঠিত হবে রাজধানী ঢাকায়।’
দাবা খেলার প্রতিযোগিতায় এসে আন্তর্জাতিক মাস্টার আবু সুফিয়ান সাকিল বলেন, ‘নিয়মিত খেলাধুলাই পারে সমাজকে পরিবর্তন করতে। দাবা খেলতে ছোট্ট একটি কক্ষ আর চেয়ার-টেবিল হলেই যথেষ্ট। মানসিক বিকাশে সহায়ক ভূমিকা হিসেবে কাজ করে দাবা খেলা।’
