ভাঙন রোধে পানিতে নেমে এলাকাবাসীর মানববন্ধন 

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২২, ১৫:১৪

বরিশালের বাকেরগঞ্জে উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়ন সংলগ্ন পান্ডব নদীর অব্যাহত ভাঙন রোধ ও ভূমিদস্যুদের মাটি চুরির প্রতিবাদে নদীর তীরবর্তী ভুক্তভোগী মানুষ মানববন্ধন করেছে।

বুধবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে দক্ষিণ সাদিশ এলাকাবাসীর আয়োজনে উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের দক্ষিণ সাদিশ, সাদিশ আমতলী, বাগদিয়া, নারায়ঙ্গল গ্রামের অগণিত মানুষ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে আবেদন জানানো হয়।

মানববন্ধন চলাকালে এলাকাবাসী বলেন, বিগত কয়েক বছরে এলাকার কয়েকশ পরিবার এই নদীভাঙন কবলিত হয়ে ভিটে-মাটি ও সহায় সম্বলহীন হয়েছে। গত বছর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মসজিদসহ গোরস্থান ও কয়েকটি বাড়ি পান্ডব নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। এ গ্রামগুলোর প্রায় ৫ কিলোমিটার অংশে এই ভাঙন শুরু হয়ে চলমান রয়েছে, পাশাপাশি কিছু সুবিধাভোগী ভূমিদস্যু দিনে-রাতে ভাঙন কবলিত জায়গা থেকে মাটি কেটে নিচ্ছে, ফলে ভাঙন আরও তীব্র হচ্ছে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা ইমতিয়াজ মাহমুদ সাদ্দাম বলেন, ‘বিগত কয়েক বছর ধরে এই অঞ্চলের অনেক পরিবার পান্ডব নদীর তীব্র ভাঙনে সহায় সম্বলহীন হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ভাঙন রোধে এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।’

৯০ নম্বর দক্ষিণ সাদিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী কবিরুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকার একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি নদীতে বিলীন হয়ে গেলে পাঠদানের জন্য একটু দূরে টিনসেট দিয়ে ৩ রুমবিশিষ্ট একটি ঘর করা হয়েছে। কিন্তু নদী ভাঙন যেভাবে এগুচ্ছে, তাতে পরবর্তীতে এই অঞ্চলের ছেলেমেয়েরা কোথায় পড়তে যাবে, তা নিয়ে আমরা চিন্তিত।’

দক্ষিণ সাদিশ গ্রামের কৃষক আ. ছত্তার বলেন, ‘পান্ডব নদীর ভাঙনে আমার ৪ একর জমি বিলীন হয়ে আজ আমি অসহায় হয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি।’ 

বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল চন্দ্র শীল বলেন, ‘পান্ডব নদীর ভাঙন কবলিত এলাকায় অবৈধভাবে মাটিকাটা রোধে কয়েকবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল জরিমানা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে বরাদ্দ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

বরিশাল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দিপক দাস বলেন, ‘বাকেরগঞ্জ উপজেলার পান্ডব নদীর ভাঙনের বিষয়টি আমি জানি। ভাঙন রোধ প্রকল্পের প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য দাপ্তরিক কার্যক্রম চলমান আছে। বরাদ্দ এলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ইত্তেফাক/মাহি