ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বুধবার (২৪ আগস্ট) স্বাধীনতার ৩১ বছর উপলক্ষে ইউক্রেনীয়দের উদ্দেশে একটি আবেগপূর্ণ বক্তৃতা দিয়েছেন। তিনি বলেন, রাশিয়া যখন ইউক্রেনে আক্রমণ করেছিল তখন তাদের দেশের পুনর্জন্ম হয়েছিল। এছাড়াও তিনি বলেন, মস্কোর আধিপত্য থেকে মুক্তির লড়াই তারা কখনোই ছাড়বে না। খবর এনডিটিভির।
জেলেনস্কি তার বক্তৃতায় বলেন, এই বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোর চার টায় বিশ্বে একটি নতুন জাতির আবির্ভাব ঘটে। নতুন এক জাতির জন্ম হয়নি, পুনর্জন্ম হয়েছে। যে জাতি কাঁদেনি, চিৎকার করেনি বা ভয় পায়নি। এমন এক জাতি যারা পালিয়ে যায়নি, হাল ছাড়েনি আর ভুলে যায়নি।
৪৪ বছর বয়সী যুদ্ধকালীন নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কি ১৯৯১ সালে ভেঙে যাওয়া রুশ-শাসিত সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতার কেন্দ্রীয় কিয়েভের বিশাল স্মৃতিস্তম্ভের সামনে যুদ্ধের ক্লান্তিতে এই বক্তৃতা দেন।
তিনি বলেন, আমাদের মাথায় বন্দুক তাক করার ভয়ে আমরা কোনো সমঝোতা করবো না। আমাদের জন্য সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান বা ট্যাঙ্ক নয় বরং শেকল। বেড়া নয়, শেকল আমাদের জন্য বেশি ভয়ংকর বলে জানান তিনি।
ইউক্রেন পূর্বে শিল্প ডনবাস অঞ্চলের হারানো অঞ্চল ও সেইসঙ্গে ক্রিমিয়ার উপদ্বীপ পুনরুদ্ধার করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জেলেনস্কি। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করে নেয় রাশিয়া।
তিনি তার বক্তৃতায় আরও বলেন, 'আমাদের জন্য যুদ্ধের শেষ কি? আমরা বলতাম, শান্তি, এখন আমরা বলি বিজয়।'
পশ্চিমা সামরিক সূত্রগুলি এখন বলছে, রুশ বাহিনী ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণ অঞ্চলে তাদের আক্রমণাত্মক অভিযানে সামান্য অগ্রগতি করেছে। তারা যুদ্ধটিকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ধীর, রক্তাক্ত, আক্রমণাত্মক লড়াইয়ের সঙ্গে তুলনা করছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর আজ পর্যন্ত টানা ১৮২ দিনের মতো চলছে দেশ দুইটির সংঘাত। এতে দুই পক্ষের বহু হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে যুদ্ধ বন্ধে এখন পর্যন্ত কোনো লক্ষণ নেই।
