ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য সংযোগকারী ইউরোটানেলে একটি ট্রেন দুর্ঘটনার কারণে বেশ কয়েক ধরে আটকে ছিল লা শাটল ট্রেনের যাত্রীরা। ফ্রান্সের কালাইস থেকে ফোকস্টোন আসার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে আটকেপড়াদের জরুরি একটি টানেলের মাধ্যমে উদ্ধার করার দৃশ্য দেখা যায়। পরে উদ্ধারকৃতদের অন্য একটি ট্রেনে করে যুক্তরাজ্যের কেন্ট শহরের ফোকস্টোন টার্মিনালে নিয়ে যাওয়া হয়।
লা শাটলের পক্ষ থেকে বলা হয়, মঙ্গলবার(২৩ আগস্ট) ট্রেনটির আল্যার্ম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। লা শাটল কর্তৃপক্ষ এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবী করেন।
কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্র জানান, এই ঘটনা সচরাচর না ঘটলেও এটি একেবারে প্রথম নয়। প্রাইভেটকার বহনকারী ট্রেনগুলোর তুলনায় ভারবাহী লরি বহনকারী ট্রেনের ক্ষেত্রে এই ঘটনা বেশি ঘটে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, উদ্ধারকৃতদের টার্মিনাল ভবনে নিয়ে তাদের খাদ্য ও পানীয়ের ব্যবস্থা করা হয়। ধীরে ধীরে তাদের ব্যক্তিগত যানবাহনগুলোও হস্তান্তর করা হয়। তবে ইউরোটানেলের দাবী পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।
উদ্ধারকৃতদের মধ্যে অনেকেই ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ পরিস্থিতির বর্ণনা দেন। ৩৭ বছর বয়সী বার্মিংহামের বাসিন্দা সারাহ ফেলোস বার্তা সংস্থা পিএ কে বলেন, টানেলে কয়েক ঘণ্টা ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে ছিলাম। টানেলে এক নারী কান্নায় ভেঙে পড়েন।
কেন্টের মাইক হ্যারিসন বিবিসিকে বলেন, আমাদের স্টাফরা প্রায় একঘণ্টা চেষ্টা করে এই সমস্যার সমাধান করেন। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি।
চ্যানেল টানেলটি ৫০.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পাতাল রেল সুড়ঙ্গ যা সাগরের তলদেশ দিয়ে বিস্তৃত। এটি যুক্তরাজ্যের ফোকস্টোনকে ফ্রান্সের কালাইসের সাথে যুক্ত করেছে। ইংলিশ চ্যানেলের উপসাগরের মধ্যে দিয়ে চ্যানেল টানেলটি নির্মিত হয়েছে।
লা শাটলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্ষতিগ্রস্তদের প্রত্যেককে আলাদাভাবে যোগাযোগ করে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।
