সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

‘রোহিঙ্গা সংকটের দায়ভার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিতে হবে’

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২২, ০১:০২

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পুরোপুরি ব্যর্থ বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ। গতকাল বুধবার (২৪ আগস্ট) কক্সবাজার সিএসও-এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ) আয়োজিত ওয়েবিনারে তারা এসব কথা বলেন।

তারা আরো বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের দায় পুরোটাই মিয়ানমারের, এটি একটি আন্তর্জাতিক সংকট, অথচ কোনো রকম দায় না থাকার পরেও এই সংকটের দায়ভার বহন করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এর দায়ভার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই নিতে হবে।

পালসের প্রধান নির্বাহী আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, দেশে রোহিঙ্গার সংখ্যা এখন প্রায় ১২ লাখ বলে জানা যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের কয়েকটি রেজুলেশন ছাড়া এদেরকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। এতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশা কাজ করছে। একই ধরনের হতাশা আছে স্থানীয়দের মধ্যেও। প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে প্রথাগত কূটনীতির পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক কূটনীতি বা ট্র্যাক টু ডিপ্লোম্যাসির প্রতি জোর দিতে হবে।

নারী পক্ষের শিরীন হক বলেন, প্রত্যাবাসনের আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গা শিবিরের নারীদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে। শিবিরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিসের ব্যারিস্টার মানজুর হাসান বলেন, প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে জাতিসংঘের বড় ব্যর্থতা আছে। এক্ষেত্রে ব্যর্থ আসিয়ানও। রোহিঙ্গা সংকট একটি দীর্ঘায়িত সংকটে পরিণত হয়ে গেছে, তাই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন। সংকট মোকাবিলায় অর্থসহায়তা কমছে, এটা মোকাবিলায় লোকালাইজেশন রোডম্যাপ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

ডিজাস্টার ফোরামের নঈম গওহর ওয়াহরা বলেন, প্রত্যাবাসনকেই রাখতে হবে রোহিঙ্গা কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রত্যাবাসনের জন্য একটি জাতীয় কৌশলপত্র তৈরি করতে হবে এবং নিয়মিতভাবে সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন অগ্রগতি যাচাই করে দেখতে হবে। এছাড়াও বাংলাদেশ ও মিয়ানমারসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিক সমাজগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। ইপসার মো. আরিফুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে যাতে করে কোনো গোষ্ঠী ধর্মীয় মৌলবাদী দল তৈরি করতে না পারে। ক্যাম্পে মৌলবাদী দল তৈরি হলে তা দেশের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থার শিউলি শর্মা রোহিঙ্গা শিবিরে নারী নেতৃত্ব তৈরির ওপর জোর দেন। বিমল চন্দ্র দে সরকার বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রায় ৫০ শতাংশই শিশু-যুবসমাজ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ক্যাম্পের ভেতর বিভিন্ন কার্যক্রমে ব্যস্ত রাখতে হবে। কারিগরি ও জীবন দক্ষতাবিষয়ক প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এতে তাদের বিপথে যাওয়ার সম্ভাবনা কমবে এবং তারা মিয়ানমারে ফিরে গেলেও সম্মানজনক কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারবে।

সুশীলনের মো. মুজিবুর রহমান বলেন, শিবির তৈরি করতে গিয়ে প্রায় ৬ হাজার একর পাহাড় এবং ২ হাজার একর বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামাজিক বনায়নে সম্পৃক্ত প্রায় আড়াই হাজার পরিবার পাঁচ বছরেও কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। প্লাস্টিক একটা বড় সংকট, সব প্লাস্টিক শিবিরে নিষিদ্ধ করতে হবে। পরিবেশ পুনরুদ্ধারে একটি বিশেষ তহবিল তৈরি করতে হবে।

ইত্তেফাক/ইআ