শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ব্যাংক খাতে গ্রাহক হয়রানি বেড়েছে ৩৬ শতাংশ

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২২, ০৩:০৫

ব্যাংকিং খাতে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ বেড়েই চলেছে। এক বছরের ব্যবধানে অভিযোগ বেড়েছে ১ হাজার ৮২৪টি বা ৩৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

বিশেষ করে চেক জালিয়াতি, অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ কর্তন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন, স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) অর্থ ফেরত না দেওয়া, স্বীকৃত বিলের মূল্য পরিশোধ না হওয়া, ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড, রেমিট্যান্স, মোবাইল ব্যাংকিং, ঋণ ও অগ্রিম, নোটস এবং কয়েনস, ব্যাংক গ্যারান্টিসহ বিভিন্ন ধরনের সেবায় হয়রানির অভিযোগ বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জুনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে বিভিন্ন পর্যায় থেকে মোট ৬ হাজার ৭৯৮ অভিযোগ এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। আগের অর্থবছরে অভিযোগের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৯৭৪টি। সারা দেশে ব্যাংকগুলোর ১০ হাজার ৯৮০টি শাখা রয়েছে। এর বাইরে উপশাখা, এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট, অ্যাপ, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, এটিএম বুথ, পসসহ বিভিন্ন উপায়ে সেবা দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। উন্নত সেবার মাধ্যমে গ্রাহক আকর্ষণে নানা প্রচারণার পরও শাখায় গিয়ে নানা হয়রানিতে পড়ছেন গ্রাহকরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিস বিভাগে ব্যাংকিং-সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ করা যায়। ই-মেইলের মাধ্যমে, লিখিত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে নির্ধারিত ফরমে, অনলাইনে, মোবাইল অ্যাপ এবং টেলিফোনে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে। সেবা-সংক্রান্ত তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য ১৬২৩৬ এই নম্বরে ফোন করে যে কেউ অভিযোগ জানাতে পারেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে করা অভিযোগের ৬ হাজার ১৬৭টি ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। মোট অভিযোগের যা ৯০ দশমিক ৭১ শতাংশ। আগের অর্থবছর নিষ্পত্তি হয় ৪ হাজার ৯৫০টি বা ৯৯ দশমিক ৫২ শতাংশ অভিযোগ। আর ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩ হাজার ৬৩৩টি অভিযোগের সবই নিষ্পত্তি হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছর মোট অভিযোগের মধ্যে ৩ হাজার ৬৫৯টি এসেছে টেলিফোনে, ৩ হাজার ৮৪টি লিখিতভাবে, অনলাইনে ৫২টি ও মোবাইল অ্যাপে তিনটি। আগের অর্থবছর যথাক্রমে—২ হাজার ৫০২টি, ২ হাজার ৩৬৫টি, ৯৯টি ও আটটি ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, এটি চলমান প্রক্রিয়া। হয়রানির শিকার হলেই গ্রাহক অভিযোগ করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সব অভিযোগ গুরুত্বসহকারে নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করা হয়। সে কারণে নিষ্পত্তির হার ভালো। জানা গেছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১১ সালের ১ এপ্রিল গ্রাহক স্বার্থসংরক্ষণ কেন্দ্র (সিআইপিসি) গঠন করে। পরিধি বাড়তে থাকায় পরে একে ফিন্যান্সিয়াল ইনট্রিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেস (এফআইসিএসডি) নামে পূর্ণাঙ্গ বিভাগে রূপ দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিযোগ বাড়ছে। ব্যাংকের সেবা পেতে কোনো ধরনের হয়রানি বা প্রতারণার শিকার হলেই গ্রাহকরা এ বিভাগে অভিযোগ করছে।

ইত্তেফাক/ইআ