ভেড়ামারায় গ্রামবাংলার ‘ঝাপান’ খেলা

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২২, ১৮:১২

ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ পরানখালী গ্রামের আখ সেন্টারের পাশে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী সাপ খেলা প্রতিযোগিতা। যা ‘ঝাপান’ খেলা নামে পরিচিত। আর এ খেলা দেখতে অসংখ্য নারী, পুরুষ, বয়োবৃদ্ধ থেকে শুরু করে শিশু-কিশোররাও ভিড় করেন। খেলা দেখে তারা যেমন আনন্দ পান তেমনি সাপের খেলা দেখিয়ে সাপুড়েরাও খুশি হন। অনেক সময় পুরস্কারও পান।

সম্প্রতি উপজেলার জুনিয়াদহ পরানখালী গ্রামের আখ সেন্টারের পাশে ঝাপান বা সাপ খেলা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আর এ খেলা চলে রাত পর্যন্ত। ঝাপান খেলা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ভেড়ামারা ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার ১৬ জন সাপুড়ে। মানত থাকার পাশাপাশি আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রাচীন ও গ্রামবাংলার ঐতিহ্য সাপ খেলার হারানো গৌরব ফেরাতে এবং নতুন প্রজন্মকে জানাতে স্থানীয় সাপুড়ে মনজিল হোসেন ও তার স্ত্রী ঝাপান খেলা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। 

প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী কাঠের পাটাতনের ওপর সাপ ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর সাপুড়েরা কোমর দুলিয়ে বিন বাজিয়ে নেচে গেয়ে সাপের ফণা তোলার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন। যে সাপুড়ে যত বেশি সাপের ফণা উঁচু করাতে পারবেন, সেই-ই হবেন বিজয়ী। এ প্রতিযোগিতায় ২৪ ইঞ্চি উঁচু সাপের ফণা তোলাতে পেরে খেলার আয়োজক মনজিল হোসেন প্রথম হয়ে পেয়ে যান খাসি পুরস্কার। ২৩ ইঞ্চি উঁচু সাপের ফণা তুলিয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন মিরপুরের সাপুড়ে সবুজ হোসেন। তিনি পান রাজহাঁস এবং তৃতীয় স্থান দখল করেন একই উপজেলার লিটন আলী নামে অন্য সাপুড়ে। তিনি পান পাতিহাঁস। 

তবে খেলার নিয়ম অনুযায়ী যে সাপ যত বার সাপুড়েকে ছোবল দিবে তার তত পয়েন্ট অর্থাৎ নম্বর কর্তন হবে। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। কিন্তু এখন প্রযুক্তি আর আধুনিকতার ছেয়ায় দিন দিন এসব খেলা হারিয়ে যাচ্ছে। তাই এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন এমন আয়োজনের। এমনটাই মনে করেন সাপ খেলা দেখতে আসা দর্শকসহ খেলার আয়োজক মনজিল হোসেন। 

 

ইত্তেফাক/এআই