সড়কে বড় বড় গর্ত। উঠে গেছে পিচঢালাই। সেই গর্তে জমে আছে পানি। প্রতিনিয়ত গাড়ি চলাচলের কারণে পুরো সড়কই কাদা-পানিতে একাকার। পায়ে হাঁটারও পরিস্হিতি নেই। সেখানে প্রতিদিনই উলটে পড়ছে গাড়ি। এমন পরিস্হিতি চলছে বছরের পর বছর। এটি রাজধানীর মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের নিচে যাত্রাবাড়ী শহীদ শেখ রাসেল পার্কের সামনের সড়কের চিত্র। ফ্লাইওভারের ওপরে ফিটফাট হলেও নিচের সড়কের চিত্র একেবারেই উলটো। কয়েক বছর ধরে এ সড়ক এমন বেহাল অবস্হা থাকলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। স্হানীয়রা বলছেন, এই সড়কটি ‘ফ্লাইওভারের রাজনীতিতে’ পড়েছে। যার কারণে সংস্কার হচ্ছে না। সংস্কার হলে গাড়ি ফ্লাইওভার দিয়ে না যেয়ে নিচের সড়ক দিয়ে চলাচল করবে।
সড়কের এমন বেহাল অবস্হা ও ফ্লাইওভারের পিলারের দেওয়ালের কারণে অনেক সরু হয়ে গেছে সড়ক। এতে তীব্র যানজট দেখা যাচ্ছে এই সড়কে। ফ্লাইওভারের নিচে দায়িত্বে থাকা সার্জেন্ট ফিরোজ সরদার বলেন, আমরাও দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছি। তিনি ছবি দেখিয়ে বলেন, প্রায়ই এই সড়কে এভাবে গাড়ি উলটে পড়ছে। এতে আহত হচ্ছেন অনেকে।
২০১৩ সালে উদ্বোধন করা হয় হানিফ ফ্লাইওভার। এটির বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ওরিয়ন গ্রুপ এর ব্যবস্হাপনা, টোল আদায় ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পায়। ২৪ বছরে নির্মাণ ব্যয় তুলে নেবে প্রতিষ্ঠানটি। আর আদায় হওয়া টোলের ৫ শতাংশ ডিএসসিসির তহবিলে জমা হবে।
রাজধানীতে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের আগে-পরে উদ্বোধন করা হয়েছে কুড়িল, মিরপুর-এয়ারপোর্ট রোড ফ্লাইওভার ও মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার। এসব ফ্লাইওভার ব্যবহারে টোল দিতে হয় না। যার কারণে নিচের সড়কও পরিপাটি। একমাত্র মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারেই টোল দিতে হয়। কিন্তু এত বছরেও এর নিচের সড়কগুলো ঠিক করতে পারেনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রাবাড়ীতে হানিফ ফ্লাইওভারের নিচে ফুটপাত ছাড়াও সড়কের মধ্যে ফলের দোকানসহ বিভিন্ন দোকান নিয়ে বসেছেন হকাররা। ফ্লাইওভারের পিলারের পাশে এমনভাবে দেওয়াল তৈরি করার কারণে সরু রাস্তায় তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে। স্হানীয়রা বলছেন, তীব্র যানজট ও বেহাল সড়কের কারণে বাধ্য হয়েই অনেকে ফ্লাইওভার ব্যবহার করছেন। সড়কের মধ্যে বিশাল বিশাল গর্তের মধ্যে পানি জমে আছে। একটু পরপরই গর্তের মধ্যে আটকে যাচ্ছে গাড়ি। সড়কের পাশেই ফেলে রাখা হয়েছে ইটের খোয়া। স্হানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সড়কটি সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করার জন্য এই ইটের খোয়া দেওয়ার কথা। অথচ ডিএসসিসির শ্রমিকরা সড়কে ইটের খোয়া না দিয়েই রাতের বেলা কাজ না করে ফিরে যায়। তারা একটি পক্ষের কাছ থেকে অর্থ পাওয়ার কারণে ঠিকমতো কাজ করছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।
সড়কের পাশের এক দোকান মালিক বলেন, কয়েক বছর ধরে এখানে সড়কের একই হাল। অথচ এটি স্হায়ীভাবে ঠিক করার কোনো উদ্যোগ নেই। এটি ঠিক করলে জনগণেরই লাভ। অথচ কাদের স্বার্থে এটি এভাবে দীর্ঘদিন রাখা হয়েছে আমরা জানি না। শাহিনুর নামে আরেক স্হানীয় জানান, এটি তৈরি করা হয়েছিল যানজট নিরসনের জন্য কিন্তু ফ্লাইওভারের নিচের অংশটি প্রায় সময়ই নোংরা ও বেহাল করে রাখে একটি মহল। ফ্লাইওভার ব্যবহারকারী যানবাহনগুলো খুব স্বাচ্ছন্দে্য যাতায়াত করলেও এর নিচের সড়কটি কয়েক বছর ধরে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সেখানে তীব্র যানজট লেগেই আছে।
এ বিষয়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যাত্রাবাড়ী এলাকার কাউন্সিলর আবুল কালাম বলেন, শুনেছি শিগ্গিরই সড়কটি মেরামতের কাজ শুরু হবে। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীরা ভালো বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, অঞ্চল-৫-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, ফ্লাইওভারের কারণে এই সড়ক ঠিক হচ্ছে না বিষয়টি এমন না। এখানে বিটুমিন ব্যবহার করলে থাকে না, তাই আরসিসি ঢালাই দিয়ে স্হায়ীভাবে সড়ক করতে চাচ্ছি। খুব শিগ্গিরই সড়ক নির্মাণে টেন্ডার হবে। বহু দিনের এ সমস্যা দূর হবে বলে আশা করছি।
অন্যদিকে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন গ্রুপের গণমাধ্যম সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালিদ মাসুদ বলেন, সড়কের বিষয়ে সিটি করপোরেশন ভালো বলতে পারবে।
