বাগাতিপাড়ার স্বরুপপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকটে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন চার শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ভোগান্িতর মধ্যে বারান্দায় পাঠদান চলছে। গত পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে এভাবেই ক্লাস করতে হচ্ছে। শিক্ষকের লেখার বোর্ডও নেই। জানা গেছে, স্বরুপপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৮০ সালে স্হাপিত হয়। পরে ২০১৩ সালে এটি সরকারিকরণ হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য প্রধান শিক্ষক ও চার জন সহকারী শিক্ষক রয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে বর্তমানে তিনটি কক্ষ রয়েছে। এর একটিতে নতুন ভবনের নির্মাণসামগ্রী রাখা, একটি অফিস কক্ষ এবং অন্যটিতে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। চলতি বছরের ৬ মার্চ নতুন বিল্ডিং নির্মাণের উদ্বোধন করা হয়। সেই সময় তিন কক্ষবিশিষ্ট পুরাতন ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। তারপর থেকেই কক্ষসংকট চলছে। তবে নতুন ভবনের কাজ ধীরে হওয়ায় আরো এক বছরের বেশি সময় লেগে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আকলিমা খাতুন বলে, খোলা বারান্দায় ক্লাস করতে গিয়ে রোদ সরাসরি গায়ে লাগে। আবার ফ্যানও নাই, তাই গরমে অনেক কষ্ট হয়। বৃষ্টি আসলে ক্লাস বন্ধ করে অফিসে গাদাগাদি করে বসে থাকতে হয়। এতে আমাদের পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন জানান, প্রথম শিফটে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কক্ষে পাঠদান হয়, আর শিশু ও প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ঐ বারান্দায় পাঠদান করানো হয়। আবার দ্বিতীয় শিফটে চতুর্থ শ্রেণির কক্ষে এবং তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের খোলা বারান্দায় বসে পাঠদান হয়। এতে করে ঐ অল্প স্হানটিতে একসঙ্গে তিন জন শিক্ষক পাঠদান করাতে গিয়ে শিক্ষকরা বিড়ম্বনার শিকার হন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের একই সঙ্গে একাধিক শিক্ষকের কথা কানে শুনতে পাওয়ায় মনোযোগ বিঘ্নিত হয়। এছাড়াও যে কোনো দুর্যোগে দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অফিসের মধ্যে গাদাগাদি করে বসিয়ে রাখতে হয়।
বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সামস্তাব রেজ আল রুমি বলেন, সরকারি স্কুলে কক্ষসংকটের এমন অবস্হা আর কোথাও আছে কি না জানা নেই। কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত আবেদন করেও কাজ হয়নি। ছোট একটি টিনের ছাপড়া ঘর করা হয়েছে, যার বেড়া অর্থের অভাবে দেওয়া সম্ভব হয়নি। নতুন ভবনের কাজে ধীরগতি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগ আরো কত দিন পোহাতে হবে বুঝতে পারছি না। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ড. সাবরিনা আনাম বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। এসব ক্ষেত্রে শিক্ষা অফিসের বরাদ্দ থাকে না। সরকার তো স্হায়ী বিল্ডিং নির্মাণ করে দিচ্ছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরোনো ভবনটি ভেঙে ফেলায় এই সমস্যা, নির্মাণ কাজ শেষে শ্রেণিকক্ষ সংকট আর থাকবে না। তার পরও অস্হায়ীভাবে স্হানীয়দের সহযোগিতায় কিছু করা হবে বলেও জানান তিনি।
