মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ঢাবিতে ১৩ বছরে ১৪ ভবন

  • শিক্ষার্থীদের আসন বেড়েছে ৭ হাজার
আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২২, ০৪:২০

গত ১৩ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত হয়েছে ১৪টি সুউচ্চ ভবন। নির্মাণাধীণ রয়েছে আরো তিনটি ভবন। এতে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্হা হয়েছে। সরকারের সদিচ্ছায় বদলে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত চিত্র।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন নির্মাণ হয়েছে চারটি। এগুলো হলো ১২ তলাবিশিষ্ট সামাজিক বিজ্ঞান ভবন, ৫ তলাবিশিষ্ট উচ্চতর সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র, ১০ তলাবিশিষ্ট উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র, ১০ তলাবিশিষ্ট এমবিএ ভবন। এছাড়াও নির্মাণাধীন রয়েছে ২৩ তলাবিশিষ্ট আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সাইন্স ভবন। শুধু একাডেমিক ভবন নয়, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য নির্মিত হয়েছে ১০টি আবাসিক ভবন, দুইটি হল ও শিক্ষার্থীদের জন্য চারটি আবাসিক ভবন।

অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ৭৩-র অধ্যাদেশ উপহার দিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তেমনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অবকাঠামোগত ও একাডেমিক মানউন্নয়নে সহায়তা করে যাচ্ছেন।

ব্যবস্হা হয়েছে ৭ হাজার আসনের: আবাসিক সমস্যা সমাধানের জন্য গত ১৪ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইটি সুউচ্চ হল ও দুইটি ভবন নির্মিত হয়েছে। নির্মাণাধীন রয়েছে আরো দুইটি ভবন। ২০১২ সালে নির্মাণ করা হয় ১ হাজার ৪০০ আসনবিশিষ্ট কবি সুফিয়া হল। ২০১৩ সালে নির্মাণ করা হয় ১ হাজার আসনবিশিষ্ট বিজয় একাত্তর হল। এ দুইটি হলের বাইরেও ২০১৮ সালে রোকেয়া হলে নির্মাণ করা হয় ১ হাজার আট আসনবিশিষ্ট ৭ মার্চ ভবন, ১ হাজার ৫০০ আসনবিশিষ্ট সন্েতাষচন্দ্র ভট্টাচার্য ভবন। সব মিলিয়ে এসব হলে শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ হাজার আসন বেড়েছে। এছাড়াও এ দুটি ভবনের বাইরে নির্মাণাধীন রয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ১১ তলাবিশিষ্ট নতুন ভবন, জগন্নাথ হলে রবীন্দ্র ভবন। এসব ভবনেও আরো ২ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্হা হবে। এসব ভবন ও হলে আলাদাভাবে রয়েছে ছয়টি হাউজ টিউটর ভবন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সুউচ্চ টাওয়ার:২০২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে শেখ রাসেল টাওয়ার। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ২০ তলাবিশিষ্ট বঙ্গবন্ধু টাওয়ার। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের ১০ তলাবিশিষ্ট শেখ কামাল ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে, আজিমপুরে বটতলা এলাকায়ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্হানে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য নির্মাণাধীন রয়েছে আরেকটি ভবন।

শিক্ষকদের আবাসন: গত ১৪ বছরে শিক্ষকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে তিনটি আবাসিক ভবন। এগুলো হলো মনিরুজ্জামান ভবন, আবুল খায়ের ভবন ও প্রভোস্ট কমপ্লেক্স।

মাস্টারপ্ল্যানে ভবন হবে ৯৭টি:এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে মাস্টারপ্ল্যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে পাশ হওয়ার পর এটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, তিন ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯৭টি নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে একাডেমিক ভবন থাকবে ১৭টি, ছাত্রী হল আটটি, ছাত্রদের ১৬টি। এছাড়াও ২২টি হাউজ টিউটর ভবন, শিক্ষক ও অফিসারদের জন্য ১২টি, স্টাফদের জন্য ৯টি ভবন থাকছে। অন্য ক্যাটাগরিতে থাকছে ১৩টি ভবন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারপ্ল্যানের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অবকাঠামোগত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, একাডেমিক মান বৃদ্ধিতে নজর দিয়েছে। অন্য সরকারের সময় এ বিশ্ববিদ্যালয় ছিল সবচেয়ে অবহেলিত।

ইত্তেফাক/এএইচপি