সাতক্ষীরার তালায় দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার। এতে রাসায়নিক সারের ব্যবহারের প্রবণতা যেমন কমছে, তেমনি সাশ্রয় হচ্ছে ফসলের উৎপাদন খরচ। উপজেলায় কেঁচো সার চাষ করে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন ১ হাজার ২০০জন চাষি। আর রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিক সার ব্যবহারে সুফল পাচ্ছেন প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকেরাও।
প্রাথমিকভাবে এসব কৃষকদের মনে কেঁচো সার ব্যবহারে বিরূপ ধারণা থাকলেও তা কেটে গেছে নিমেষে। এখন তারা নিজেরাই সচ্ছল হয়ে অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। কৃষকদের জৈব সারের ব্যবহার ও উৎপাদন ছড়িয়ে দিতে উদ্বুদ্ধ করছে কৃষি বিভাগ।
তালা উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে তালা উপজেলায় ৪০ জন খামারিকে ভার্মি কম্পোস্ট সারের প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে উপজেলায় ছোট-বড় আকারে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনকারী রয়েছেন। তাঁরা উপজেলায় সারের চাহিদা পূরণ করে বাইরেও বিক্রি করছেন। শিবপুর গ্রামের ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনকারী মোড়ল আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমি ২০১৩-১৪ সাল থেকে জৈব সার উৎপাদন করছি। আমার খামার থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১০ টন সার বের হয়। এ সার ব্যবহার করে একদিকে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে স্বাবলম্বী হচ্ছেন আমার মতো খামারিরা।’ মো. আব্দুল আজিজ বিশ্বাস নামে আরেক জন বলেন, ‘২০১৮ সালে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় সর্বপ্রথম আমি ও আমার স্ত্রী সালমা বেগম কেঁচো সার উৎপাদনের কাজ শুরু করি। তখন আমাদের অনেক অভাব ছিল। এই সার উৎপাদন ও বিক্রি করে বর্তমানে আমাদের সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। আমার খামার থেকে প্রতি দেড় মাসে প্রায় ১৫ টন ভার্মি কম্পোস্ট বের করা হয়। এই সার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে।
আজিজ বিশ্বাসের স্ত্রী সালমা বেগম বলেন, ‘কেঁচো সার আমার পরিবারের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। সারের পেছনে অনেক খাটাখাটনি করা লাগছে আমাদের। কিন্তু সব সময় চেষ্টা করছি ভালো সার তৈরি করার। এই কেঁচো সার থেকে এখন গরু-ছাগলের ছোট একটা খামারও করেছি আমরা।’ তালার সবুজ বাংলা সিআইজি কৃষক সমবায় সমিতির কোষাধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম জানান, তাদের সমিতির সদস্যরা নিজেদের জমিতে এই কেঁচো সার ব্যবহার করেন। ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহারে তাদের ফলন ভালো হয়। এটি রাসায়নিক সারের মতো ব্যয়বহুল নয়। অন্যদিকে, ফলন ভালো হওয়ায় এই সার ব্যবহারে কৃষকেরা আগ্রহী হচ্ছেন। সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে কৃষকদের মধ্যে ভার্মি কম্পোস্ট জৈব সারের চাহিদা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পানের বরজ, সবজি ও ফলের ক্ষেতসহ মাছের ঘেরে সাধারণত ভার্মি কম্পোস্ট সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই সার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সার ব্যবহার করা লাগে না জানিয়ে তিনি বলেন, যদি কোন উদ্যোক্তা ভার্মি কম্পোস্ট সার বা কেঁচো সার উৎপাদন করতে আগ্রহী হন তাহলে কৃষি অফিস সার্বিকভাবে তার পাশে থাকবে।
