বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পর্যটকদের ভ্রমণসহায়তায় ট্যুর অপারেটরদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ

১ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য ফের খুলছে সুন্দরবন  

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২২, ০২:০৪

সুন্দরবনে পর্যটকদের পরিবেশ সচেতনভাবে ভ্রমণে সহায়তার জন্য ট্যুর অপারেটরদের প্রশিক্ষণের (ট্রেনিং) উদ্যোগ নিয়েছে সুন্দরবন বন বিভাগ। ভবিষ্যতে যেসব ট্যুর অপারেটর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবে না তাদের সুন্দরবনে পর্যটক নিয়ে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হবে না। এদিকে, বৈশ্বিক মহামারি করোনার সংকট কাটিয়ে ও বর্ষা মৌসুম শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য পর্যটকদের অনুমতি দেওয়া হবে।

সুন্দরবন বন বিভাগ সূত্র জানায়, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট (বাদাবন) সুন্দরবন ভ্রমণে দেশিবিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণে খুলনা অঞ্চলে তিন শতাধিক ট্যুর অপারেটর গ্রুপ রয়েছে। এরমধ্যে খুলনা মহানগরীতেই রয়েছে ৬০টির অধিক ট্যুর অপারেটর গ্রুপ। এই ৬০টি ট্যুর অপারেটর গ্রুপের মধ্যে ৪০টির নিজস্ব লঞ্চ রয়েছে। অধিকাংশ ট্যুর অপারেটর গ্রুপের নিজস্ব লঞ্চ না থাকলেও পর্যটন মওসুমে তারা ভাড়া করা লঞ্চে পর্যটকদের সুন্দরবনে আনা-নেওয়া করে। 

 বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট, সুন্দরবনের করমজল

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে ভ্রমণ করতে গিয়ে পর্যটকরা উচ্চৈঃ শব্দ ও নিজেদের সঙ্গে আনা বাইরের নানা ধরনের খাবার বন্যপ্রাণীদের খেতে দেয়। এছাড়া সুন্দরবনের নদনদীতে ও বনের মধ্যে যত্রতত্র ফেলে আসে পানির বোতল ও খাবারের প্যাকেটসহ নানা ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সুন্দরবনের স্থলজ ও জলজ প্রাণীর জীবনচক্রে। বিষাক্ত আবর্জনা খেয়ে কোনো কোনো প্রাণীর মৃত্যু হচ্ছে। কোনো প্রাণীর আবার বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে হুমকির মুখে পড়ছে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও সার্বিক পরিবেশ-প্রতিবেশ ব্যবস্থা।

পর্যটকদের অবিবেচনাপ্রসূত এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সুন্দরবনে পর্যটকদের পরিবেশসচেতনভাবে ভ্রমণে সহায়তার জন্য ট্যুর অপারেটরদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এ প্রশিক্ষণ শুরু হবে।

 বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট ,সুন্দরবন

এদিকে, বৈশ্বিক মহামারি করোনার সংকট কাটিয়ে ও বর্ষা মৌসুম শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন ভ্রমণে যাওয়ার জন্য পর্যটকদের অনুমতি দেওয়া হবে।

নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর সুন্দরবনের করমজল, হারবাড়িয়া, কটকা, কচিখালী, হিরণ পয়েন্ট, দুবলা ও নীলকমলসহ সমুদ্র-তীরবর্তী এবং বনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে লঞ্চ, ট্যুরবোট, ট্রলার ও বিভিন্ন নৌযানে চড়ে যেতে পারবেন দেশিবিদেশি পর্যটকরা।

 বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট, সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার।

রূপান্তর ইকো ট্যুরিজম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আজম ডেভিড বলেন, সুন্দরবনের পরিবেশ সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে থাকেন গাইডরা। এক্ষেত্রে সুন্দরবনে প্রশিক্ষিত গাইডের তীব্র সংকট রয়েছে। বড় লঞ্চগুলোতে দুজন এবং ছোট লঞ্চগুলোতে কমপক্ষে এক জন করে প্রশিক্ষিত গাইডের প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে লঞ্চগুলোতে প্রশিক্ষিত গাইড নেই বললেই চলে। এছাড়া সুন্দরবন ভ্রমণে বন বিভাগের নীতিমালা ও সঠিক দিকনির্দেশনাও নেই। এতদিন পর পর্যটকদের পরিবেশসচেতনভাবে সুন্দরবন ভ্রমণে সহায়তার জন্য সুন্দরবন বন বিভাগ ট্যুর অপারেটরদের প্রশিক্ষণের যে উদ্যোগ নিয়েছে তা খুবই সময়োপযোগী ও ভালো উদ্যোগ।

 বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের অন্যতম প্রানী চিত্রা হরিণ।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন জানান, সুন্দরবনে পরিবেশসচেতন ভ্রমণে পর্যটকদের সহায়তা করার জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে ট্যুর অপারেটরদের তিন থেকে চার দিনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এ প্রশিক্ষণ শুরু করার চিন্তাভাবনা চলছে। যারা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন, বন বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের সনদপত্র (সার্টিফিকেট) প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণ না নেওয়া হলে কোনো ট্যুর অপারেটরকে ভবিষ্যতে সু্ন্দরবনে পর্যর্টক নিয়ে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হবে না। তিনি আরো বলেন, বন বিভাগের পক্ষ থেকে সুন্দরবন ভ্রমণ নীতিমালা-২০১৪ সংশোধন করে আরো যুগোপযোগী করার পরিকল্পনাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বন বিভাগের।

ইত্তেফাক/ইআ