৯৯৬ কোটি টাকার তিন সড়ক

জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় সাত সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক হচ্ছে না

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২২, ০৩:৩২

নেত্রকোনা জেলা শহরের যানজট কমাতে শহরের বাইর দিয়ে ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ বাই পাস সড়ক (সংযোগ সড়ক) এবং নেত্রকোনা কলমাকান্দা সড়কের ১৫টি সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলেও জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় সাতটি সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা যাচ্ছে না। ফলে সড়কগুলো জনগণের কোনো উপকারে আসছে না। যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ না হওয়াতে সড়ক নির্মাণ স্থবির হয়ে আছে বলে জানা গেছে। একই অবস্থা নেত্রকোনা কেন্দুয়া সড়কের। সেখানে জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ বন্ধ রয়েছে। এই তিনটি সড়কের জন্য টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে ৯৯৬ কোটি টাকা। সড়ক ও জনপথ বিভাগ এই সড়ক নির্মাণ করছে। জমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন বরাবরে বহু আগেই সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে টাকাও হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে লোকবলের অভাবে জমি জরিপ এবং অধিগ্রহণে দেরি হচ্ছে বলে জেলা প্রশাসন থেকে জানা গেছে।

নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ বাইপাস সড়ক এবং নেত্রকোনা কলমাকান্দার ৩০ কিলোমিটার সড়কে ১৫টি পাকা সেতু নির্মাণ করা হয়। এরমধ্যে আটটি সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। তবে বাইপাস সড়কের মধ্যে চল্লিশা, কালী‌র্, দুধকুড়ি এবং উলুয়াটি এলাকায় নির্মিত সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ না করায় অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা যাচ্ছে না। এছাড়া নেত্রকোনা কলমাকান্দা সড়কে বাউসী, হিরাকান্দা এবং মুন্সী খালের পের সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলেও জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা যাচ্ছে না। বাই পাস সড়কের ঠিকাদারের লোকজন জানান, দ্রুত জমি অধিগ্রহণ করে তাদের কাছে জমি বুঝিয়ে না দিলে তারা আর কাজ করবেন না।

নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুধু বাইপাস সড়ক বা কলমাকান্দা সড়ক নয়, নেত্রকোনা কেন্দুয়া সড়কেরও একই অবস্থা। সেখানেও জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় সড়ক নির্মাণের কাজ বন্ধ রয়েছে। নির্মাণের সময় পার হয়ে গেলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুধু বাইপাস সড়কটি ২০২৩ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ হবার কথা।

নেত্রকোনার বীর মুক্তিযোদ্ধা লেখক হায়দার জাহান চৌধুরী বলেন, শহরের উত্তর দিকের যে স্থান দিয়ে বাই পাশ নির্মাণ করা হচ্ছে তা ভালো উদ্যোগ, কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানান।

নেত্রকোনা চেম্বারের সহসভাপতি এইচ আর খান পাঠান সাকি বলেন, তিনটি সড়ক খুব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। অবিলম্বে সড়কগুলো অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ করে তা বুঝিয়ে দেওয়া দরকার। তাহলে শহরের যানজট কিছুটা কমবে। তবে কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানান তিনি।

নেত্রকোনার পরিবহন মালিক সমিতির সম্পাদক আরিফ খান বলেন, সংযোগ সড়ক নির্মিত হলে শহরের সড়কের ওপর চাপ কমবে। দুর্ঘটনাও কমবে। তিনি দ্রুত কাজ শেষ করার আহ্বান জানান।

নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরিফ খান এই প্রতিনিধিকে বলেন, তবে সড়কের জমি অধিগ্রহণ করার কাজটি শেষ না হওয়ায় এবং ঠিকাদারকে বুঝিয়ে না দেওয়াতে সড়ক নিমা‌র্ণ কাজে শুরু করতে দেরি হচ্ছে। জমি অধিগ্রহন শেষ হলেই কেবল সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে। নিবা‌র্হী প্রকৌশলী এই প্রতিনিধিকে আরো বলেন, চারটি সেতুর নিমা‌র্ণ কাজ শেষ হয়ে গেছে। ঠিকাদাররা সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য জায়গা চাচ্ছে; কিন্তু জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় তাদের জমি বুঝিয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বিধায় অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ সম্ভব হচ্ছেে না। ঠিকাদাররা এখন তাদের মেশিনপত্র নিয়ে চলে যেতে চাইছেন।

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি তিনি অবগত। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জমি অধিগ্রহণের পূর্বে প্রাথমিক জরিপ কাজ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সার্ভেয়ার না থাকায় জমি অধিগ্রহণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে এ সমস্যা অচিরেই কাটিয়ে উঠে জমি অধিগ্রহণ করে তা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এ ছাড়া জমি নিয়ে জমির মালিকদের মধ্যে নানান জটিলতা থাকায় এই জরিপ কাজটি শেষ করতে সময় লাগছে। একই জমি বিভিন্ন লোকজন দাবি করে বসে। ফলে জরিপের কাজ দেরি হয়। এরপরেও জরিপ সমস্যা সমাধানে তার দপ্তর সচেষ্ট। জনগণের স্বার্থেই তা দ্রুত করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইত্তেফাক/ইআ