ষষ্ঠবারের মত ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ আয়োজন করতে যাচ্ছে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)-এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইয়াং বাংলা। আর এই অ্যাওয়ার্ডের জন্য আবেদনের শেষ দিন ৩১ আগস্ট। দেশ ও স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের উন্নয়নে যেসব তরুণ উদ্যোক্তা ও সংগঠন কাজ করে যাচ্ছেন তাদের স্বীকৃতি দিতে ষষ্ঠবারের মত ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ আয়োজন করা হচ্ছে।
২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে যাত্রা শুরু করা ইয়াং বাংলা বর্তমানে তারুণ্যের সর্ববৃহৎ প্লাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ লাভ করেছে। বিগত ৫ আসরে পুরষ্কার পাওয়া সংগঠনগুলোর পাশাপাশি ইয়াং বাংলার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে ৩১৫ টির বেশি সংগঠন। এই সংগঠনগুলোসহ ইয়াং বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ৫০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক ও ৩ লাখের বেশি সদস্য। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ইয়াং বাংলার একজন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু অধিকার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন, পিছিয়ে পড়া মানুষের ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান ও উদ্ভাবন, সৃজনশীলতা ও বিনোদন, জ্ঞান ও সক্ষমতা বিকাশ, অতি দরিদ্র মানুষের ক্ষমতায়ন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সাংস্কৃতিক উদ্যোগ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জরুরি প্রয়োজনে তরুণরা যেই সংগঠনের মাধ্যমে সাড়া দিয়েছেন তারা ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের’ জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এ বছর ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের সংগঠন, যারা অন্তত ১৮ মাস ধরে এসব সেবামূলক কাজে যুক্ত, তারাও আবেদন করতে পারবেন। পুরষ্কার পেতে আবেদনকারী সংগঠন বা সংস্থার বয়স অন্তত ২ বছর হতে হবে।
এ ছাড়া সামাজিক সেবাদান, ক্যাম্পেইন ও কার্যক্রমের মাধ্যমে ভূমিকা রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক ক্লাবকেও আবেদন করতে আহ্বান জানিয়েছে ইয়াং বাংলা।
অ্যাওয়ার্ডের জন্য আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে ইয়াং বাংলার ওয়েবসাইটে (jbya.youngbangla.org) আবেদনের করা যাবে। এরপর জমা হওয়া আবেদনগুলো ১ অক্টোবরের পর বাছাই করা হবে। বাছাই করা সংগঠনগুলোর কাজ এবং সমাজে এর প্রভাব দেখার জন্য মাঠ পর্যায়ে পর্যবেক্ষণে যাবে ইয়াং বাংলা টিম। সেখান থেকে শীর্ষ সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও সম্প্রদায় ভিত্তিক উন্নয়নে ১০টি পুরস্কার দেওয়া হবে।
তরুণ ও যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চআয়ের দেশে রূপান্তরের ভিশনকে সামনে নিয়ে যে কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে, সেটাকে আরও গতিশীল করতে ‘তোমার জয়ে বাংলার জয়’ স্লোগানে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগাতে ‘ইয়াং বাংলা’ ২০১৪ সালে আত্মপ্রকাশ করে।
ইয়াং বাংলার কার্যক্রমসমূহ
- জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড
তরুণদের দেশ গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাতে তারুণ্য নির্ভর সংগঠনগুলোকে নিয়ে ইয়াং বাংলা এখন পর্যন্ত পাঁচবার জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের আয়োজন করেছে। চলতি বছর নভেম্বরে ষষ্ঠবারের মত ১০টি সংগঠনের হাতে প্রদান করা হবে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড। ইয়াং বাংলার প্লাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেদের প্রচারণার পাশাপাশি এই সংগঠনগুলো 'ইয়াং ডেলিগেট' হিসেবে ভারত ও চীনে সফরের সুযোগ লাভ করেছেন।
- জয় বাংলা কনসার্ট
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের আগুন ঝরা ভাষণকে স্মরণ করে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে প্রতি বছর আয়োজন করা হচ্ছে জয় বাংলা কনসার্ট। করোনা মহামারীর কারণে ২০২১ ও ২০২২ সালে স্টেডিয়ামে আয়োজন করা যায়নি এই কনসার্ট। তরুণদের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলা এই কনসার্ট উপভোগ করতে প্রতি বছর ৬০ হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণী আর্মি স্টেডিয়ামে সমবেত হয়। এ ছাড়াও অনলাইন ও টেলিভিশনে কনসার্টটি উপভোগ করেন আরো ১০ লাখের বেশি মানুষ। আয়োজক ইয়াং বাংলা আশাবাদ ব্যক্ত করে, আগামী বছর আবারও আয়োজন করা হবে জয় বাংলা কনসার্ট।
- ভিশন ২০২১ ইন্টার্নশিপ
তরুণদের কর্মক্ষম করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইয়াং বাংলা শুরু করে 'ভিশন ২০২১ ইন্টার্নশিপ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এলজিইডি মন্ত্রণালয় ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর মত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোয় প্রথমবারের মত ইন্টার্নের সুযোগ তৈরি করে ইয়াং বাংলা। এ ছাড়াও মাইক্রোসফট বাংলাদেশ ও আমরা নেটওয়ার্কে ইন্টার্নের সুযোগ তৈরি করে ইয়াং বাংলা। এখন পর্যন্ত ২৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী তাদের গ্রাজুয়েশন শেষে ইন্টার্নের সুযোগ পেয়েছে ইয়াং বাংলার মাধ্যমে।
- শিক্ষা ও কর্মক্ষম করে গড়ে তোলা
তরুণদের শিক্ষা প্রদান ও কর্মক্ষম করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বেশি কিছু প্রকল্প চালু করে ইয়াং বাংলা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- কর্ম সোপান পাটাতন ও মাইক্রোসফট ইয়াং বাংলা ইনিশিয়েটিভ। এই দুই কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণদের প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি ক্যারিয়ার বিষয়ে সচেতনতা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়।
- ই-ভিলেজ
কৃষি নির্ভর বাংলাদেশের জন্য কৃষি প্রযুক্তিতে উন্নয়নে বিকল্প নেই। আর সে কারণেই ইয়াং বাংলার উদ্যোগ ই-ভিলেজ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইয়াং বাংলার ৫৪ হাজার পরিবার কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা লাভ করবে, সেই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে ১৫ হাজার তরুণের।
- শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব
সারাদেশে স্থাপিত ২ হাজার শেষ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবে প্রশিক্ষণের জন্য ইয়াং বাংলার ৪ হাজার সেচ্ছাসেবী রয়েছে। এই ল্যাবগুলো থেকে প্রশিক্ষণ লাভ করছে ৬০ হাজারের বেশি স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী। সেই সঙ্গে স্ক্রেচ এবং পাইথন প্রোগ্রামের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে ৩০০ শিক্ষক ও ৫ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে।
- জাতীয় নীতি নির্ধারণে তরুণদের অংশগ্রহণ
জাতীয় নীতি নির্ধারণে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে ইয়াং বাংলা। এরই অংশ হিসেবে ইয়াং বাংলা এখন পর্যন্ত দেশের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে তরুণদের নিয়মিত 'পলিসি ক্যাফে'-এর আয়োজন করে। এ ছাড়াও আন্তর্জাতিক বেশ কিছু সম্মেলনে বাংলাদেশের তরুণ হিসেবে মত প্রকাশের জন্য ইয়াং বাংলার পক্ষ থেকে প্রেরণ করা হয় ৭২ জনকে। এ ছাড়াও 'লেটস টক' নামে পৃথক একটি আয়োজনও পরিচালনা করে ইয়াং বাংলা। চলতি বছর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে 'লেটস টক'-এর আয়োজন করা হয়।
- জনপরিসরে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণা
চলতি বছর জনপরিসরে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইয়াং বাংলা। গণ পরিবহন, দোকান বা বিভিন্ন স্থানে নারীদের নিরাপত্তা ও হয়রানি নিয়ে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে নারী নিরাপত্তায় বিভিন্ন সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করা এবং তার সমাধানের জন্য নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে 'পলিসি ক্যাফে'-তে তরুণদের সরাসরি নিজেদের মত প্রকাশের সুযোগ তৈরি করা হয়। এ সময় উপস্থিত নীতি নির্ধারকেরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ইয়াং বাংলা আয়োজিত এ ধরণের উদ্যোগ আরও বেশি গ্রহণ করা গেলে নারী নিরাপত্তা ঝুকি হ্রাসে যুগান্তকারী এক পরিবর্তন আসবে বাংলাদেশে।

