বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ঈশ্বরদীতে ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহী এয়ারলাইনসগুলো 

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২২, ০৩:৫৭

ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালু করার দাবি এখন সবার। দেশের গুরুত্বপূর্ণ জনপদ ঈশ্বরদীতে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় বিমানবন্দর। এটি জাগিয়েছিল বিরাট আশা। অথচ সেই সম্ভাবনাময় বিমানবন্দরটিতে নিয়মিত বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় অকেজো হয়ে পড়ছে বিমানবন্দরের টার্মিনাল বিল্ডিং, রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে, অ্যাপ্রোন, নেভিগেশন ও যোগাযোগ সরঞ্জাম, অফিসারদের আবাসিক এলাকা এবং বিমানবন্দরে প্রবেশের রাস্তা।

সড়কপথে দীর্ঘ রাস্তায় যানজট বাড়তে থাকায় মানুষ এখন সময় বাঁচাতে বিমান ভ্রমণের দিকে ঝুঁকেছে। সেই সঙ্গে অব্যবহৃত ঈশ্বরদী বিমানবন্দর পুনরায় চালুর দাবি আরো জোরালো হচ্ছে।

ব্রিটিশ শাসনামলে পাবনার ঈশ্বরদীতে বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৭ সালে লোকসানসহ নানা অজুহাতে প্রথম বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করে ১৯৯৪ সালে বিমানবন্দরটি আবার চালু করা হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২০১৩ সালে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ঈশ্বরদী বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। কিন্তু ছয় মাস ১১ দিন চালু থাকার পর ২০১৪ সালের ২৯ মে আবার বন্ধ হয়ে যায় এটি। তবে মাঝেমধ্যে হেলিকপ্টার ও বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমানগুলোকে এটি ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ইপিজেডের কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত এখন ঈশ্বরদীতে। এ ছাড়াও ঈশ্বরদীতে রয়েছে বাংলাদেশ সুগারক্রপ রিসার্চ ইনস্টিটিউট, আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, ডাল গবেষণা কেন্দ্র, পাবনা সুগার মিল, রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় অফিস। এসব কারণে ঈশ্বরদী এখন রীতিমতো ব্যস্ত শহর। তাই জরুরি ভিত্তিতে অব্যবহৃত বিমানবন্দর চালু করা প্রয়োজন বলে সবাই মনে করেন।

রাশিয়ার জেএসসি এএসইর ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং রূপপুর প্রকল্পের রাশিয়ান প্রকল্প পরিচালক এলেক্সি ডেইরি বলেন, ‘আমরা ঢাকা-ঈশ্বরদীর মধ্যে বিমান সংযোগ স্থাপনের ধারণাকে সমর্থন করি। এটি আমাদের লোকদের মূল্যবান সময় বাঁচাতে এবং ঝামেলা এড়াতে সহায়তা করবে।’

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, যদি বেসামরিক বিমান চলাচল কতৃ‌র্পক্ষ ঈশ্বরদী বিমানবন্দরের রানওয়ে মাত্র ৫০০ মিটার প্রসারিত করে, তাহলে আমরা এটিআর ৭২-৬০০-এর মতো ছোট বিমানের মাধ্যমে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারি।

এ বিষয়ে সিভিল অ্যাভিয়েশনের মেম্বার (অপারেশন অ্যান্ড প্লানিং) এয়ার কমোডর সাদিকুর রহমান চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, বিভিন্ন কারণে বিমানবন্দরটি বন্ধ হয়েছিল। জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাদের বলা হচ্ছে এটি চালুর জন্য। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। এয়ারলাইনসগুলো আগ্রহ প্রকাশ করেছে। রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে কি না, সে বিষয় মাথায় রেখেই সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখা হবে। অনেকগুলো ফ্যাক্টর এবং জায়গারও সমস্যা রয়েছে। সিষ্টেমেটিক প্রক্রিয়ায় আলাপ-আলোচনা চলছে এবং চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় আছে।

ইত্তেফাক/ইআ