বিদ্যুতের ভর্তুকির টাকা পাম্প মালিকের পকেটে

আপডেট : ১২ জুন ২০১৯, ১৮:৫৮

ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে সেচের বিদ্যুৎ বিলের ওপর কৃষককে ২০ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। কিন্তু রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় কৃষক নয়, ভর্তুকির টাকা চলে যাচ্ছে সেচ পাম্পের মালিকদের পকেটে। উপরন্তু সেচ পাম্পের মালিকেরা নানা অজুহাতে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 
উপজেলা কৃষি বিভাগ ও পাগলাপীর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রংপুর-২ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প আছে এক হাজার ৭টি। এসব পাম্পের সেচ সুবিধা নিয়ে উপজেলা কৃষকেরা এ বছর ৬ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করেছেন।
 
সরকার পাড়া গ্রামের কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করে বলেন, ধানের দাম কম। বিঘা প্রতি লোকসান হচ্ছে চার হাজার টাকা। তার ওপর বিদ্যুতের দাম বাড়ার কথা বলে এ বছর সেচ পাম্পের মালিকেরা বেশি টাকা নিচ্ছেন। এলাকা ভেদে এই বৃদ্ধির হার প্রতি একরে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা।
 
সরকার পাড়া গ্রামের কৃষক রাজু আহম্মেদ জানান, গত বছর এক একর জমিতে বোরো চাষ করে সেচ বাবদ দিয়েছিলেন পাঁচ হাজার টাকা। এবার একই জমিতে সেচ দেওয়া বাবদ পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার পর আরও দুই হাজার টাকা বেশি দাবি করেছেন পাম্প মালিক। 

টাকা বেশির দাবির কারণ জানতে চাইলে ওই পাম্প মালিক জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর রাজুর জমিতে বেশি সেচ দিতে হয়েছে। তাছাড়া বিদ্যুতের দাম বাড়ায় একটু বেশি টাকা ধরা হয়েছে। 

আরও পড়ুন: অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, গর্ভপাতের অভিযোগ

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তারাগঞ্জ অঞ্চলের সহকারী প্রকৌশলী মোশারফ হোসেন ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশোক কুমার জানান, এক একর জমিতে সেচ দিতে বিদ্যুৎ খরচ হবে এলাকা ভেদে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। প্রতি একরে সেচ পাম্প চালকের মজুরি এক হাজার টাকা করে নিলেও প্রতি একরে খরচ পড়বে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। বৃষ্টি হলে খরচ আরও কমবে।

পাগলাপীর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক আলী হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ভর্তুকির পুরো সুবিধা ভোগ করছেন সেচ পাম্পের মালিকরা। চাষীদের উচিত তাদের কাছ থেকে ভর্তুকির টাকা আদায় করা।

ইত্তেফাক/অনি