বাংলাদেশে কার্যরত নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে (এনবিএফআই) পরিচালক নিয়োগ ও অব্যাহতির ক্ষেত্রে নানান শর্ত জুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে এসব প্রতিষ্ঠানে পরিচালক নির্বাচন, পদায়ন, পুনঃনিযুক্তি ও পুনঃনিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আগে অনুমোদন নিতে হবে। আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ব্যতীত কাউকে পদ থেকে অব্যাহতি, বরখাস্ত বা অপসারণ করা যাবে না।
সোমবার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশে কার্যরত সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় বলা হয়েছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হতে হলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বিধানানুযায়ী ন্যুনতম শেয়ার ধারণ করতে হবে। কমপক্ষে ১০ বছরের ব্যবস্থাপনা, ব্যাবসায়িক বা পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পরিচালকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি হতে পারবে না।
আর অযোগ্যতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় বলা হয়েছে, মনোনীত ব্যক্তি বা মনোনয়ন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে দেওয়ানি বা ফৌজদারি আদালতের রায়ে কোনো বিরূপ পর্যবেক্ষণ বা মন্তব্য থাকলে তিনি পরিচালক হিসেবে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।
মনোনীত ব্যক্তি বা মনোনয়ন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকারের কোনো সংস্থা কর্তৃক সম্পাদিত তদন্ত বা পরিদর্শন প্রতিবেদনে জাল-জালিয়াতি, আর্থিক অপরাধ বা অন্য অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে কোনো পর্যবেক্ষণ থাকলে তিনি অযোগ্য হবেন।
অযোগ্যতার ক্ষেত্রে আরো রয়েছে, মনোনীত ব্যক্তি বা মনোনয়ন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান যদি আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিমালা, প্রবিধান বা নিয়মাচার লঙ্ঘনজনিত দণ্ডে দণ্ডিত হন, কোনো ব্যক্তি কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকা অবস্হায় তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যার কোনো পৃথক সত্তা নেই, তার পক্ষে আর কোনো পরিচালক ঐ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পর্ষদে নিযুক্ত হলে তিনি অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বহিঃহিসাব নিরীক্ষক, আইন উপদেষ্টা, উপদেষ্টা, পরামর্শক, বেতনভুক্ত কর্মচারী বা অন্য কোনো পদের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন কিংবা বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে নিয়োজিত ছিলেন এ রূপ ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পর্ষদে নিযুক্ত হতে পারবেন না। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পদের মেয়াদ হবে অনধিক তিন বছর এবং কোনো পরিচালক একাদিক্রমে তিন মেয়াদের বেশি ওই পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না। তবে একাদিক্রমে তিন মেয়াদে পরিচালক পদে অধিষ্ঠিত থাকার মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী তিন বছর অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি পরিচালক পদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হবেন।
তবে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড এবং বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ হাইকোর্ট কর্তৃক পুনর্গঠিত হওয়ায় উপরি উক্ত বিধান তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
এর আগে চলতি বছরের ২০ জুন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী নিয়োগ সংক্রান্ত নীতিমালা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে বলা হয়েছিল, কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী পদের অব্যবহৃত পদে কমপক্ষে দুই বছরের অভিজ্ঞ বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সক্রিয় কর্মকর্তা হিসেবে ন্যুনতম ২০ বছরের অভিজ্ঞরাই প্রধান নির্বাহী হিসেবে মনোনীত হবেন।
তবে কোনো কোম্পানির চেয়ারম্যান,পরিচালক, কর্মকর্তা থাকাকালীন নিজ পদ থেকে বরখাস্ত ব্যক্তি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হিসেবে অযোগ্য বিবেচিত হবেন। প্রধান নির্বাহীকে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যুনতম স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হতে হবে। অর্থনীতি, ব্যাংকিং ও ফিন্যান্স কিংবা ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি থাকলে তা অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে।
