বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৬ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সাঁতরে ২৮৫ কিমি পাড়ি দিতে চান ৭০ বছর বয়সি বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২২, ০৬:৩০

প্রায় ৭০ বছর বয়সে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ার মিশনে নেমেছেন দেশের কৃতি সাঁতারু বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য। নদীপথে ২৮৫ কিলোমিটার অবিরাম সাঁতার দিতে চান তিনি। এই লক্ষ্যে গতকাল সোমবার সকাল ৬টায় সিলেট নগরীর সুরমা নদীর তীরে ঐতিহাসিক কিনব্রিজ পয়েন্ট সংলগ্ন চাঁদনিঘাট থেকে শুরু করেছেন সাঁতার। যাবেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব ফেরিঘাটে। সেখানে পৌঁছাতে তার আনুমানিক ৭০ ঘণ্টা সময় লাগবে। এ যেন তার জীবনের নতুন গল্প। দেশের সাঁতারের ইতিহাসের আরেক অধ্যায়।

গতকাল বিকাল ৫টায় সুরমা নদীর তীরে ছাতক শহর অতিক্রম করেন তিনি। তার সঙ্গে নৌকায় রয়েছেন দুজন ডাক্তার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারসহ বেশ কয়েজন। সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য ভালো আছেন। তরল খাবার খাচ্ছেন। মাঝে মধ্যে চা খাচ্ছেন।

ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্যের সাঁতারের শুরুটা ছিল সিলেট থেকে। শেষও করতে চান সিলেটেই। কৃতি এই সাঁতারু এর মধ্য দিয়ে দেখছেন বিশ্বজয়ের স্বপ্ন।

২০১২ সালের মে মাসে সরকারি চাকরি থেকে অবসরে গেলেও এখনো কনসালট্যান্ট হিসাবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অধীনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কাজ করছেন।

গত শনিবার ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, সাঁতারের জন্য ’৭৪ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে রুপার তৈরি নৌকা উপহার দিয়েছিলেন, এটা তার জীবনের অন্যরকম এক উপহার। বলেন, ‘আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, কনসালট্যান্ট হিসেবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অধীনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কাজ করছি। স্বপ্ন দেখি এদেশের তরুণ প্রজন্ম সাঁতার কাটবে, জীবনের জয়গান গাইবে। দেশকে পরিচিত করবে সারা বিশ্বে।’

‘ছাত্রজীবন থেকে সাঁতার আমার নেশা। আমি একজন অবিরাম শৌখিন সাঁতারু’,—বলেন ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য। তিনি আরো বলেন, ‘১৯৭৬ সালে ১০৮ ঘণ্টা ৫ মিনিট অবিরাম সাঁতার কেটে জাতীয় রেকর্ড সৃষ্টি করি। ২০১৮ সালে ১৮৫ কিলোমিটার দূরপাল্লার সাঁতার কাটি, যা ছিল আরেকটি স্থানীয় রেকর্ড। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটানা ৯৩ ঘণ্টা ১১ মিনিট সাঁতার কেটে রেকর্ড করায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাকে রুপার নৌকা দিয়ে সম্মানিত করেন।’

মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৯ সালে ‘একুশে পদক’ পাওয়া এই শৌখিন সাঁতারুর এবারের লক্ষ্য ২৮৫ কিলোমিটার সাঁতার কাটা। যদি এতে তিনি সফল হন, তাহলে বয়স্ক সাঁতারু হিসেবে এটা একটা বিশ্বরেকর্ড হবে; যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সম্মানজনক একটা ব্যাপার হতে পারে।

ইত্তেফাক/ইআ