বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

তাইওয়ানকে ১১০ কোটি ডলারের অস্ত্র দেওয়ার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২২, ০০:৩১

তাইওয়ানকে ১১০ কোটি ডলারের অস্ত্র দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে কংগ্রেসের অনুমোদন চাইবেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এদিকে চীন বলেছে, তাইওয়ানের কাছে যেসব অস্ত্র বিক্রি করছে তার মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে ‘এক চীন নীতির’ লঙ্ঘন করছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের অস্ত্র বিক্রির নতুন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে গতকাল মঙ্গলবার এ মন্তব্য করেছে বেইজিং।

গত সপ্তাহে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে আরো বিভিন্ন প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। তাইওয়ানকে দিতে যাওয়া ১১০ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে জাহাজবিধ্বংসী ৬০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান থেকে অন্য বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষমতাসম্পন্ন ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র। এ সংক্রান্ত প্যাকেজটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য তালিকায় ৩৫৫ মিলিয়ন ডলারের ৬০টি এজিএম-৮৪এল হারপুন ব্লক ২ ক্ষেপণাস্ত্র, ৮৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারের ১০০টি এআইএম-৯এক্স ব্লক ২ সাইডউইন্ডার ট্যাকটিক্যাল এয়ার টু এয়ার মিসাইল এবং ৬৫৫ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের একটি নজরদারি রাডার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন জন ব্যক্তি এ তথ্য জানিয়েছেন। বাইডেন প্রশাসন এই অস্ত্র প্যাকেজের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর এসব অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার আগে এতে কংগ্রেসের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক সিনেট কমিটি এবং প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। আশা করা হচ্ছে, কংগ্রেস সদস্যরা তাইওয়ানে এই অস্ত্র বিক্রি অনুমোদন করবেন। তবে তা হতে আগামী কয়েক সপ্তাহ কিংবা কয়েক মাস লেগে যেতে পারে।

চীনের প্রতিবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ এক বিবৃতিতে বলেন, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রকে জরুরিভাবে বাতিল করতে হবে। লিউ পেংইউ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে জরুরিভিত্তিতে এ অস্ত্র চুক্তি বাতিল করতে হবে। এর পাশাপাশি এমন সব কার্যক্রমও বন্ধ করতে হবে, যার কারণে তাইওয়ান প্রণালির আশপাশে সামরিক উত্তেজনা বেড়ে যায়। একই বিবৃতিতে চীনা মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যাই করুক চীন তার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে দৃঢ়তার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর ঘিরে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। তাইওয়ান প্রণালিতে ব্যাপক সামরিক মহড়া শুরু করে বেইজিং। এখনো সেই মহড়া চলছে। তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড মনে করে চীন। কিন্তু তাইওয়ানের এতে তীব্র আপত্তি রয়েছে। তাইওয়ানের নাগরিকরা নিজেদের স্বাধীন বলে মনে করেন। তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী, দ্বীপটিকে আত্মরক্ষায় সাহায্য করবে যুক্তরাষ্ট্র। তাইওয়ান নিয়ন্ত্রিত দ্বীপগুলোর খুব কাছ থেকে বারবার চীনা ড্রোন উড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছে তাইপে। সোমবার তাইওয়ানের সে অভিযোগ নাকচ করে দেয় চীন। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন এবং মার্কিন আইনপ্রণেতারা ক্রমাগত তাইওয়ান সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন জোরালো করেছে। —ডয়চেভেলে, রয়টার্স ও আলজাজিরা

ইত্তেফাক/ইআ