মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বিনোদন ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের সবার

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২২, ১৯:৪৪

আমরা এমন এক সময় বাস করছি, যেখানে সোশ্যাল মিডিয়া বৈশ্বিক জনসংখ্যার একটি বড় অংশের জন্য দৈনন্দিন যোগাযোগের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। আমরা দেখেছি গত কয়েক বছরে সোশ্যাল মিডিয়া কীভাবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে বদলে দিয়েছে। আমরা টিকটকের মতো বিনোদন প্ল্যাটফর্মের উত্থানও দেখেছি; যা জনসাধারণের মধ্যে, বিশেষ করে অল্পবয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে খুবই কম সময়ে।  

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার তরুণরা বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল কনটেন্ট তৈরি করছে। কিশোর-কিশোরীরাও সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিনোদন প্ল্যাটফর্মগুলোকে দ্রুত গ্রহণ করছে, কারণ তারা অল্প বয়স থেকেই বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করতে অভ্যস্ত। ডিজিটালাইজেশনের প্রসারের পাশাপাশি বিনোদন প্ল্যাটফর্মগুলোর বিভিন্ন সুবিধা ও সহজে ব্যবহারের কারণে তরুণরা প্রতিদিন নিত্য নতুন সব কনটেন্ট অনায়াসেই তৈরি করছে।   

ডিজিটাল স্ক্রিন আধুনিক বিশ্বের একটি অপরিহার্য অংশ। এটি ছাড়া সময় কল্পনাও করা যায় না এখন। কম্পিউটার থেকে মোবাইল ফোন পর্যন্ত, আমাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রতিদিন ডিজিটাল স্ক্রিনের সাথে যুক্ত হতেই হচ্ছে। সাধারণত, বিশেষজ্ঞরা সুপারিশ করেন যে, আমাদের উচিত হবে নির্দিষ্ট সময় পর পর স্ক্রিন থেকে কিছুটা দূরে থাকা প্রয়োজন। স্ক্রিন থেকে বিরতি নিয়ে আমাদের চোখকে বিশ্রাম দেওয়াও দরকার। যদিও আমরা এর উল্টোটাই দেখি, কিশোর-কিশোরীরা তাদের স্ক্রিনেই আটকে থাকে বেশি। তারা নিজেদের ডিভাইসের মাধ্যমে ভিডিওর সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায়।

কিশোর-কিশোরীদের ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে বিশষজ্ঞরা নানা ধরনের উদ্বেগের কথা বলছেন। তরুণ প্রজন্মের সঠিক বিকাশের জন্য একটি নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করতে, কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়া, এমনকি অনলাইনে বিনোদন প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করারও পরামর্শ দিচ্ছেন। শিক্ষার উদ্দেশ্যে বা শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য ডিজিটাল সামগ্রী বেছে নেয়া এরইমধ্যে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে তরুণদের সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিনোদন প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বন্ধ করা সবচেয়ে বেশি কার্যকর পদ্ধতি কখনোই না। 

সবকিছুর দুটি দিক আছে। ইতিবাচক ফলাফল সবসময় স্বীকৃত হয়, যখন কিশোর-কিশোরীদের জন্য তৈরি করা তথ্য তাদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছায়। আমরা পর্যালোচনা করতে পারি, আমাদের জীবনযাত্রার মানকে প্রভাবিত করার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী সুস্থতা ও সচেতনতা বাড়াতে কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার করা যেতে পারে। স্থানীয় ইনফ্লুয়েন্সাররা শিশুদের সামাজিক শিষ্টাচার এবং সৃজনশীল ভিডিওর মাধ্যমে কীভাবে অনলাইনে নিরাপদ থাকতে হয় সে সম্পর্কে শিক্ষিত করতে পারেন। বিনোদন এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে এই ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করলে অবিশ্বাস্যভাবে ভালো ফলাফল আসতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিনোদন প্ল্যাটফর্মগুলোতে দেওয়া শিক্ষামূলক তথ্য কিশোর-কিশোরীদের কল্পনাশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। সেই সঙ্গে তাদের জ্ঞানের ভিত্তিকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। বিনোদন প্ল্যাটফর্মগুলো সৃজনশীল এবং আকর্ষণীয় মিডিয়া ফর্মগুলির মাধ্যমে সামগ্রী ব্যবহারের অনুমতি দেয়। বিনোদন প্ল্যাটফর্মগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে, ঐতিহ্যগত মূলধারার সংস্কৃতি যোগাযোগের জন্য একটি নতুন মাধ্যম হিসেবেও কাজ করতে পারে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এমনভাবে মিথস্ক্রিয়াকে সহজ করে যা তরুণদের ইতিবাচক মূল্যবোধকে জাগ্রত করে।  

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা যদি শিক্ষামূলক বিষয়বস্তুর মাধ্যমে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারি, তাহলে আমরা আমাদের কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে পছন্দসই ব্যবহার-আচরণ প্রতিষ্ঠা করতে এবং পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হবো। অ্যাপের মাধ্যমে তরুণদের একটি নিরাপদ এবং সুরক্ষিত ইন্টারনেট সরবরাহ করা যেতে পারে। সেজন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের যত্নশীল আচরনের পাশাপাশি পলিসি লেভেলেও ভাবনার সুযোগ আছে। 

প্রত্যেকটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিনোদন প্ল্যাটফর্মেই বৃহৎ পরিসরে ব্যবহারকারীর সুরক্ষা ও প্রাইভেসি সেটিংস ফিচার দেয়া হয়। সেখান থেকে ব্যবহারকারীরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী এগুলো সেট করে নিতে পারেন। এমনকি তারা যেসব কনটেন্টকে ক্ষতিকর বিবেচনা করে সেগুলোও এড়িয়ে যেতে পারে। টিকটক তার ব্যবহারকারীদের বৃহৎ পরিসরে একটি ভালো অভিজ্ঞতা দিতে কাজ করে। একটি দায়িত্বশীল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এর কমিউনিটিকে সুরক্ষিত এবং সমৃদ্ধ পরিবেশ বজায় রাখায় জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে টিকটক।

বাংলাদেশে টিকটক তাদের কনটেন্ট মডারেশনকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে। সে জন্য প্ল্যাটফর্মটি একটি শক্তিশালী টিম গড়ে তুলেছে। কমিউনিটি গাইডলাইন ভঙ্গ করলে এই দলটি টিকটক থেকে ভিডিও সরিয়ে ফেলে। গত তিন মাসে, বাংলাদেশে কমিউনিটি গাইডলাইন না মানায় ৩৫ লাখের বেশি ভিডিও সরিয়েছে টিকটক। 

প্লাটফর্ম গুলোর পাশাপাশি পিতামাতা ও অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে তাদের সন্তানরা ডিজিটাল স্পেসে কোন বিষয়গুলোতে বিচরণ করছে। সন্তানরা যাতে ডিজিটাল স্পেসে নিরাপদে বিচরণ করতে পারে সে পরিবেশ তৈরি করতে পদক্ষেপ নিতে হবে। টিকটক পিতামাতা এবং তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা এবং মঙ্গল নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। এজন্য টিকটক বাংলাদেশের স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী সেফটি সেন্টার চালু করেছে। সেখানে টিকটক সম্পর্কে সমস্ত সরঞ্জাম এবং টিপস রয়েছে, যার মধ্যে আছে নতুন ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নির্দেশিকা, অভিভাবকের নির্দেশিকা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী করতে হবে। যখন পিতামাতা এবং অভিভাবকরা তাদের ডিজিটাল সুস্থতার জন্য প্ল্যাটফর্মগুলোর সুরক্ষা আপডেট করেন, সেটি তাদের সন্তানদের জন্য আরও কার্যকরী হয়। আমাদের সবাইকেই মনে রাখতে হবে, বিনোদন এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি