হরষপুর-মির্জাপুর সড়কের বেহাল দশা

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:২৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে হরষপুর-মির্জাপুর সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার না করায় সড়কটির এখন বেহাল দশা। এটি বিজয়নগর উপজেলার একটি  জনগুরুত্বপূর্ন সড়ক। সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন ওই এলাকার মানুষের কাছে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় ৬ কিলোমিটার লম্বা এই রাস্তাটি সংস্কারের দরপত্র (টেন্ডার) আহবান করা হয়। ৪ কোটি টাকায় সংস্কার কাজটি পায় চট্টগ্রামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স রিপন ট্রেডার্স ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেসার্স পিন্টু কন্সট্রাকশন (জয়েন্ট বেঞ্চার)। কাজটি করাচ্ছেন মেসার্স পিন্টু কন্সট্রাকশনের মালিক মো. আতাউর রহমান পিন্টু। চলতি বছরের মার্চ মাসে কাজটি করার ওয়ার্ক অর্ডার (অনুমতিপত্র) পাওয়ার পর গত মাসে ৬ কিলোমিটার রাস্তার মাত্র আড়াই কিলোমিটার কাজ করেন ঠিকাদার। গত দুই মাস ধরে সংস্কার কাজ বন্ধ রয়েছে।

ইতিমধ্যেই রাস্তাটি খানাখন্দে ভরে গেছে। রাস্তার মধ্যে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহনের চাকা ওইসব গর্তে আটকে যায়। সামান্য বৃষ্টি হলে কাদায় সয়লাব হয়ে যায় রাস্তা। বৃষ্টির দিনে প্রায়ই রাস্তার মধ্যে চলাচলরত ইজিবাইক উল্টে গিয়ে লোকজন আহত হয়। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ও হরষপুরপুর ইউনিয়নের লোকজনসহ হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করে। 

এই সড়কের সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক মোস্তাক আহমেদ বলেন, সড়কটির অবস্থা খুবই খারাপ। প্রতিদিনই সড়কে ছোটখাট দুর্ঘটনা ঘটে। ভাঙ্গাচোরা জায়গায় যাত্রী নামিয়ে ধাক্কা দিয়ে অটোরিকশা পার করতে হয়। এতে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। দুর্ঘটনার কবলে পড়ে যাত্রীরা কমবেশি আহত হয়। তিনি দ্রুত সড়কটির সংস্কার কাজ শেষ করে যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘব করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।

এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের নিদারাবাদ গ্রামের ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, এই সড়কের অবস্থা খুব খারাপ। সরকার রাস্তাটি সংস্কারের জন্য টেন্ডার দিলেও গত দুই মাস ধরে ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। ভাঙ্গা সড়ক দিয়ে চলাচল করতে আমাদের খুবই কষ্ট হয়। সড়কের মেকাডম উঠে মাঝখানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ওইসব গর্তে পানি জমে যায়। সড়কটি দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, সড়কটির অবস্থা অবণর্নীয়। বর্তমানে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তিনি সড়কটির দ্রুত সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করে জনগণের ভোগান্তি লাঘবের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি। 

হরষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সারোয়ার রহমান ভূইয়া সড়কটির ভগ্নদশার কথা স্বীকার করে বলেন, এই সড়কে প্রায়ই ছোটখাট দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে জনগণ খুবই কষ্ট করছে। তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় বেশ কয়েকবার সড়কটির সংস্কার নিয়ে কথা বলেছি কিন্তু কোন লাভ হয়নি।  

ঠিকাদার আতাউর রহমান পিন্টু বলেন, আমি মার্চ মাসে কাজের কার্যাদেশ পেয়ে কাজটি শুরু করেছি। ইতিমধ্যেই ৬ কিলোমিটার রাস্তার প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার কাজ করেছি। কার্পেটিং করার মেশিনের অভাবে বর্তমানে সংস্কার কাজ বন্ধ আছে। আশা করি দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজটি পুনরায় শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করতে পারবো।

বিজয়নগর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে সড়কটি সংস্কারের জন্য টেন্ডার হয়। চট্টগ্রামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স দিয়ে কাজটি পায় ঠিকাদার আতাউর রহমান পিন্টু। তিনি বলেন, প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়কটির সংস্কারের জন্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ কোটি টাকা। তিনি বলেন, গত ৬ মাসে সড়কটির মাত্র আড়াই কিলোমিটার কাজ হয়েছে। এখনো সড়কটির আড়াই কিলোমিটার মেকাডমসহ কার্পেটিং এবং ২৭০ মিটার সিসি ঢালাইয়ের কাজ বাকি রয়েছে। তিনি বলেন, গত ২ মাস ধরে ঠিকাদার সংস্কার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে এর সংস্কার কাজ শেষ করার কথা ছিলো। কিন্তু ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করতে পারবেন বলে মনে হয়না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.এইচ. ইরফান উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, গত দুই মাস ধরে সড়কের সংস্কার কাজ বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদারকে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করার কথা বলেছি। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথেও সড়কটির সংস্কার কাজ নিয়ে কয়েক দফা কথা হয়েছে।

 

ইত্তেফাক/এআই