শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সেজে রোগী দেখেন নাসমুল হাসান! 

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫:২১

বিভিন্ন বয়সী শিশু নিয়ে ১২-১৫ জন মা এসেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে। এই চিকিৎসকের কাছে শুধু যে মা ও শিশু এসেছেন এমন নয়। কোমর, হাটু, বুক ব্যথাসহ নানা রোগ নিয়ে এসেছেন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ। 

রোগ নিরাময়ে এসব রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন মাধ্যমিক পাস করা মা ও শিশু রোগে বিশেষ অভিজ্ঞ চিকিৎসক নাজমুল হাসান। নিজের নামের পাশে বিভিন্ন ডিগ্রি ব্যবহার করে একযুগ ধরে মানুষের সঙ্গে চিকিৎসার নামে এভাবেই প্রতারণা করছেন তিনি। গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় বাজারে সরকার ফার্মেসি নামের দুটি কক্ষই তার চিকিৎসালয়। এই চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র থেকে জানা গেছে, সিপিটি (ঢাকা) ও ডিএমএফ (নাটোর) নামের ১৫ দিন মেয়াদি কোর্স করেছেন তিনি।

তবে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুজাহিদুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, এমবিবিএসে উত্তীর্ণ না হাওয়া পর্যন্ত কেউ সিপিটি ও ডিএমএফ কোর্স করতে পারবেন না। তা-ছাড়া চিকিৎসা সাস্ত্রে ১৫ দিনের সিপিটি ও ডিএমএফ নামের কোর্স নেই। 

স্থানীয়রা জানান, মা ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি ব্যবহার করে চিকিৎসা শুরু করেছিলেন নাজমুল হাসান। এরপর থেকে আশেপাশের এলাকার মানুষ তাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবেই জানেন। সেই সুবাদে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ প্রতিদিন ভিড় জমান নাজমুলের চেম্বারে। চিকিৎসা ফি নেওয়ার পাশপাশি বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক থেকে পরীক্ষা-নীরিক্ষার কমিশনও নেন এই নামধারী চিকিৎসক।

গতকাল নামধারি চিকিৎসক নাজমুল হাসানের চেম্বারে গিয়ে দেখা গেছে, শিশুদের নিউমনিয়া, কাশি, জ্বর, ডায়রিয়াসহ যাবতীয় রোগের চিটকিৎসা দিচ্ছেন। আবার রোগীর লোকজন তার ব্যবস্থাপত্রের ওষুধ কিনছেন তারই ফার্মেসি থেকে। 

শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার চিকিৎসা নিতে দুই বছরের শিশুকে নাজমুল হাসানের চেম্বারে নিয়ে এসেছেন রিয়া বেগম। তিনি জানান, নাজমুল হাসান নাম করা মা ও শিশু বিশেষজ্ঞ। এ কারণে তিনি শিশুটিকে নিয়ে এসেছেন চিকিৎসার জন্য। তার প্রতিবেশীরা অনেক আগে থেকেই এই চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেন। 

অভিযুক্ত নাজমুল হাসান ইত্তেফাককে বলেন, ‘একটি আলিয়া মাদরাসা থেকে মাধ্যমিক পাসের পর ঢাকা শিশু হাসপাতাল থেকে মা ও শিশু রোগের ওপর ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছি। এছাড়া নাটোর থেকে ডিএমএফ, ঢাকা থেকে সিপিটি কোর্সও সম্পন্ন করে চিকিৎসা দিচ্ছি। এছাড়া গুরুতর রোগীর ক্ষেত্রে স্থানীয় এমবিবিএস চিকিৎসকদের সহযোগিতা নিয়ে চিকিৎসা দেই আমি।’  

নাজমুল হাসান আরও বলেন, ‘আমি তো একাই বিশেষজ্ঞ না হয়ে রোগী দেখি না। আরও অনেক চিকিৎসক শর্ট কোর্স করে সব ধরনের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।’

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘১৫ দিনের সংক্ষিপ্ত কোর্স করে তিনি মা ও শিশু বিশেষজ্ঞ হয়ে চিকিৎসা দিতে পারেন না। দ্রুত তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইত্তেফাক/এইচএম