স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশ। এ বাংলাদেশে এখন সকলের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা হয়েছে, খাদ্যের ব্যবস্থা হয়ে গেছে। বাংলাদেশে এখন আর না খেয়ে কেউ থাকে না। তিনি বলেন, বিশ্বের বহুদেশ বিনামূল্যে তাদের দেশের মানুষকে করোনার টিকা দিতে পারেনি। আমরা সব মানুষকে বিনামূল্যে টিকা দিয়েছি। করোনার টিকার জন্য সরকার ৪৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে। করোনা নিয়ন্ত্রণে আমাদের সরকার সারাবিশ্বে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা সদর হাসপাতাল ও কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পৃথক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। এখন ওষুধের অভাব নেই, বেডের অভাব নেই। ১১১টি মেডিক্যাল কলেজ হয়েছে। ৫টি ইউনিভার্সিটি হয়েছে। সরকারিভাবে ৩৮টি মেডিক্যাল কলেজ হয়েছে। জেলা-উপজেলায় হাসপাতালের বেড দ্বিগুণ হয়েছে। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী আছেন বলেই এসব সম্ভব হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের জনবলের ঘাটতি আছে। কোভিডের সময় আমরা ১৫ হাজার চিকিৎসক ও ১৮ হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছি। আজকেও কুমিল্লায় ১০টি কমিউনিটি ক্লিনিক, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ ও সদর হাসপাতালে ১০ শয্যা করে আইসিইউ বেড উদ্বোধন করেছি। এছাড়া ৬ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালের শয্যা উন্নীতকরণসহ বিভিন্ন স্থাপনার উদ্বোধন করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপি জামায়াত বলেছিল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে মসজিদ মন্দির হয়ে যাবে, বাংলাদেশ ভারত হয়ে যাবে কিন্তু তা হয়নি। মানুষ এখন গ্রেনেড হামলা, মৌলবাদ ও সন্ত্রাস চায় না, মানুষ উন্নয়ন চায়। আর আওয়ামী লীগ উন্নয়ন করে বলেই দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের সাথে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে আছে।
কুমিল্লা সদর হাসপাতালের অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (মেডিক্যাল এডুকেশন) অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিরুল মোরশেদ, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন, জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পদস্থ কর্মকর্তাগণ। অনুষ্ঠানে কুমিল্লাসহ আশপাশের ৬ জেলার ২৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া এসব জেলার স্বাস্থ্যবিভাগের বরাদ্দপত্র স্ব স্ব সিভিল সার্জনকে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রী কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনসহ কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন।
