জ্বালানি সংকটের মোকাবিলা করতে দ্রুত আরও একগুচ্ছ পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেন জার্মানির তিন শরিক দলের নেতারা। বুধবার (৩১ আগস্ট) সাংবাদিকদের সামনে জার্মানির তিন শরিক দলের নেতারা ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করেন।
করোনা থেকে শুরু করে ইউক্রেন সংকট ও তার বহুমুখী প্রভাব নিয়ে জর্জরিত জার্মানির জোট সরকারের মধ্যে ঐক্যের অভাব বার বার স্পষ্ট হয়ে উঠছিলো। সরকারি জোটের মধ্যে সমন্বয় ও ঐকমত্য ছাড়াই তিন শরিক দলের নেতারা একতরফাভাবে নানা সমাধানসূত্র তুলে ধরছিলেন। ফলে জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সম্পর্কে সরকারের নীতি যে কী, সে বিষয়ে সংশয় বাড়ছিল।
মঙ্গল ও বুধবার বার্লিনের কাছে মেসেব্যার্গে চ্যান্সেলর শলৎসের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরেও সরকারের পদক্ষেপ স্পষ্ট না হলেও তিন শরিক দলের শীর্ষ নেতা ঐক্য প্রদর্শন করলেন। সামাজিক গণতন্ত্রী দলের নেতা ও চ্যান্সেলর হিসেবে শলৎস সাংবাদিকদের বলেন, জনসাধারণের উপর বাড়তি চাপ লাঘব করতে সরকার অত্যন্ত স্পষ্ট একগুচ্ছ পদক্ষেপ প্রস্তুত করছে। উদারপন্থি এফডিপি দলের নেতা ও অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়ান লিন্ডনার চলতি বছরের পাশাপাশি ২০২৩ সালের শুরুতেও আরও সহায়তার আশ্বাস দেন।
সবুজ দলের নেতা, ভাইস চ্যান্সেলর ও অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী রোব্যার্ট হাবেক বলেন, বর্তমান এই কঠিন সময়ে দেশের কাণ্ডারী হিসেবে ওলাফ শলৎসের মতো ধীর-স্থীর ঠাণ্ডা মাথার মানুষের প্রয়োজন। তিনিও সরকারের পক্ষ থেকে আরও সহায়তার রূপরেখা তুলে ধরেন। সেইসঙ্গে বিদ্যুতের মূল্য স্থির করার বর্তমান প্রক্রিয়ায় দ্রুত রদবদলের মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের আশ্বাস দিচ্ছে জার্মান সরকার। ইউরোপীয় পর্যায়েও একই উদ্যোগ শুরু হয়েছে।
গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জের ধরে বিদ্যুতসহ সব জ্বালানির মূল্যও লাগামহীন হারে বেড়ে চলায় জার্মানির সাধারণ মানুষ ও শিল্পবাণিজ্য জগত আতঙ্কে ভুগছে। অনেকে আসন্ন শীতের মাসগুলিতে বিদ্যুতের মাসুল ও ঘর গরম রাখার ব্যয় বহন করতে পারবেন কিনা, সে বিষয়ে সংশয়ে ভুগছেন। তাছাড়া জ্বালানি সংকটের একাধিক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নিয়েও দুশ্চিন্তা বাড়ছে। সরকার ঠিক সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশ আরও গভীর সংকটের মধ্যে ডুবে যাবে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে দিচ্ছেন। ক্ষমতায় আসার ঠিক পরেই ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার হামলা জার্মানির জোট সরকারের ঘোষিত লক্ষ্যগুলিকে কোণঠাসা করে দিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী লিন্ডনার বলেন, সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি জার্মানির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলি অবহেলা করলে চলবে না। বিশেষ করে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের উপর জোর দেন তিনি। প্রকাশ্যে ঐক্য প্রদর্শন সত্ত্বেও বেশ কিছু মৌলিক বিষয়ে শরিকদের মতপার্থক্য দূর করা কতটা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে সংশয় রয়ে গেছে। যেমন জ্বালানি সংকটের ফলে যে সব কোম্পানি অস্বাভাবিক মাত্রায় মুনাফার মুখ দেখছে, তাদের উপর বাড়তি কর চাপাতে নারাজ উদারপন্থি এফডিপি দল। তবে বিনিয়োগের উপর স্বয়ংক্রিয় মুনাফায় রাশ টানতে রাজি হয়েছে এই দল।
