সব ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও অংশীদারিত্ব বাড়েনি

  • আজ সিডও দিবস
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:২৫

বৈষম্য বিলোপ আইন ও অভিন্ন পারিবারিক আইনের খসড়া করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে আইন দুটি আলোর মুখ দেখছে না। সব ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। কিন্তু অংশীদারত্ব তৈরি হচ্ছে না। যার প্রভাব পড়েছে সম্পদে, নারীর ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে। প্রতিনিয়ত বৈষ্যমের শিকার হচ্ছেন নারী। এমন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে আজ ৩ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে ‘কনভেনশন অন দ্য ইলিমিনেশন অব অল ফরমস অব ডিসক্রিমিনেশন অ্যাগেইনস্ট উইমেনস’ বা নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও) দিবস।

১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এ সনদ গৃহীত হয়। ১৯৮০ সালের ১ মার্চ এই সনদে স্বাক্ষর করা হয় এবং ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে সনদটি কার্যকর হয়। এর তিন বছর পর বাংলাদেশ সনদটি অনুমোদন করে। কিন্তু এত বছরেও সরকার সনদের ২ নম্বর ও ১৬.১(গ) ধারাটির ওপর সংরক্ষণ রেখেছে। ২ নম্বর ধারায় নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে রাষ্ট্র আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজনে আইন বা বিধিবিধানের পরিবর্তন, পরিবর্ধন অথবা বাতিল করে সমতা নিশ্চিত করবে। ১৬.১(গ) ধারায় বিবাহ করা ও বিবাহবিচ্ছেদে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। চার বছর অন্তর সিডও কমিটির কাছে অবস্থার প্রতিবেদন বর্ণনা করতে হয়। ২০১৬ সালে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। ঐ বছরের মার্চ মাসে পাঠানো প্রতিবেদনে ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর অবস্থান তুলে ধরে ঐ ধারা দুটি সংরক্ষণ তখনই তুলে ফেলা যাবে না সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়। এদিকে, ২০১৮ সালে একটি পরিস্থিতি উন্নয়ন প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি।

স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার জানান, সিডও সনদ পূর্ণ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশ প্রায়োরিটি হারাচ্ছে। এক্ষেত্রে কার্যকরি উদ্যোগও গ্রহণ করা হচ্ছে না।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পদ মালেকা বানু বলেন, সরকার অনেক আধুনিক ও প্রগতিশীল পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। কিন্তু তার পরেও সিডও সনদ পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। কারণ গুরুত্বপূর্ণ দুটি ধারার ‘সংরক্ষণ’ বা রিজার্ভেশন এখনো রয়ে গেছে। প্রতি বছরই সরকার এবং বিভিন্ন নারী ও মানবাধিকার-বিষয়ক সংস্থাগুলো সিডও সনদ পূর্ণ বাস্তবায়নে অগ্রগতির অবস্থান জানাতে প্রতিবেদন পাঠায়। হাইকোর্টের নির্দেশ মোতাবেক প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কার্যালয়ে নারীর প্রতি যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। আমরা যৌন হয়রানি নিরোধ আইন চাই। রাস্তাঘাটসহ সব স্থানে নারীর প্রতি যৌন হয়রানি দিন দিন বেড়েই চলেছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি