বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পিরোজপুর জেলার পিরোজপুর সদর উপজেলা ও কাউখালী উপজেলা মধ্যবর্তী বেকুটিয়া নামক স্থানে রাজাপুর-নৈকাঠি-বেকুটিয়া-পিরোজপুর জেলা মহাসড়কটি কঁচা নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন। কঁচা নদীর প্রস্থ প্রায় এক কিলোমিটার হওয়ায় এবং কোনো সেতু না থাকায় ফেরি পারাপারে প্রায় ৪৫ মিনিট সময় লেগে যায়। বর্ষাকালে এ নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পায় ও নদীর স্রোত তীব্র আকার ধারণ করে, ফলে পারাপারের সময় আরো বেড়ে যায়। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হয়।
বিষয়টি অনুধাবন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০০ সালের ১০ জুন প্রথমে পিরোজপুরের একটি জনসভায় কঁচা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। ২০১৩ সালে এ লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এপ্রিল ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সরকার ও চীন সরকারের মধ্যে বেকুটিয়া নামক স্থানে ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৮ সালে ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। চার মাস বাকি থাকতেই নির্মাণকাজ সমাপ্ত হলে ২০২২ সালে ৪ সেপ্টেম্বর নবনির্মিত সেতুর উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারিত হয়।
বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নামকরণ করে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। এ সেতু উন্মুক্ত করা হলে বরিশাল বিভাগের সঙ্গে খুলনা বিভাগের নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ তৈরি হবে। ফলে পায়রা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে মোংলা সমুদ্রবন্দরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ যেমন স্থাপিত হবে, তেমনি বেনাপোল, ভোমরা, বাংলাবান্দা প্রভৃতি স্থলবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজতর হবে।
স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হওয়াতে অত্র সেতু সংলগ্ন জেলা সমূহের সাথে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগের ব্যাপক প্রসার লাভ করবে। সেতুটি এ অঞ্চলের জনসাধরণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি নিরাপদ, সময় সাশ্রয়ী ও স্বাচ্ছন্দ্যময় সড়ক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে কৃষি, ব্যবসা বাণিজ্য, অর্থনীতি, শিক্ষা-সংস্কৃতি প্রসার, চিকিৎসা লাভে সহজলভ্যতা সুযোগ তৈরি করবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পর্যটন শিল্পের ক্ষেত্রে কুয়াকাটা সাগরসৈকত, সুন্দরবনসহ এ অঞ্চলের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পর্যটকদের যাতায়াতে বিশেষ সুবিধা সৃষ্টি করবে।
