মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আক্রান্ত ১১টি দেশের অসংখ্য কম্পিউটার

ভুয়া গুগল ট্রান্সলেট অ্যাপে ভাইরাস!

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৩২

কম্পিউটার ব্যবহারের সময় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে কম্পিউটারে ম্যালওয়্যার অথবা ভাইরাস ঢুকলে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। সম্প্রতি এমনই একটি ভাইরাসের সন্ধান মিলেছে। ভুয়া গুগল ট্রান্সলেট অ্যাপ ব্যবহার করে কম্পিউটারে ভাইরাস ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। চেক পয়েন্ট রিসার্চে  প্রকাশিত তথ্যে এই খবর জানানো হয়েছে। কম্পিউটারে ব্যবহারের জন্য একটি ভুয়া গুগল ট্রান্সলেট অ্যাপ তৈরি করেছে তুরস্কের একটি কোম্পানি। যা ব্যবহার করেই কম্পিউটারে Nitokod নামের ম্যালওয়্যার প্রবেশ করছে।

এখনও ডেক্সটপ কম্পিউটারের জন্য কোন পৃথক অ্যাপ তৈরি করেনি গুগল। আর এই কারণেই এটাকে গুগল এর তৈরি ট্রান্সলেট অ্যাপ ভেবে ডাউনলোড করছেন অনেকেই। কম্পিউটারে একবার এই অ্যাপ ইনস্টল হওয়ার পরে ক্রিপ্টো-কারেন্সি মাইনিং শুরু করে দিচ্ছে হ্যাকাররা।

ডাউনলোড শেষ হলে আর দশটা অ্যাপের নিয়ম মেনেই এই অ্যাপ ইনস্টল করতে হচ্ছে। এর পরে ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে শুরু ইনস্টল হচ্ছে ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার। ব্যবহারকারীর কম্পিউটার ব্যবহার করে শুরু হচ্ছে Monero ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিংয়ের কাজ। এই গোটা প্রক্রিয়া চলবে ব্যবহারকারীর অজান্তেই।

ইনস্টল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কম্পিউটারে ক্রিপ্টো মাইনিং শুরু হয়ে যাবে। সিপিআর রিপোর্টে জানানো হয়েছে নিজের সব কিছু কনফিগার করে শুরু করবে ক্রিপ্টো মাইনিং। গুগল ট্রান্সলেট ডেস্কটপ ডাউনলোড নামে  গুগল সার্চ করলে এখনও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে এই অ্যাপ।

Nitocode নামের এই ম্যালওয়্যারের সন্ধান এখনও পর্যন্ত ১১টি দেশের কম্পিউটার থেকে পাওয়া গিয়েছে। ২০১৯ সাল থেকেই এই ম্যালওয়্যারের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। একাধিকবার এই ম্যালওয়্যার সম্পর্কে সচেতন করেছে সিপিআর।

Nitokod ম্যালওয়্যার থেকে বাঁচতে ডেক্সটপ কম্পিউটারে গুগল ট্রান্সলেট অ্যাপ ডাউনলোড করবেন না। এই ধরনের কোন অ্যাপ এখনও নিয়ে আসেনি গুগল। শুধুমাত্র ব্রাউজার ওপেন করে গুগল ট্রান্সলেট ওয়েবসাইট থেকে ডেক্সটপ থেকে এই ট্রান্সলেশন পরিষেবা ব্যবহার করুন।

এই ধরনের ম্যালওয়্যার অ্যাটাক দিন দিন বেড়ে চলেছে। তবে শুধু কম্পিউটার গ্রাহক নয়, Android গ্রাহকরাও হ্যাকারদের নিশানায় এসেছে। সম্প্রতি গুগল প্লে স্টোর থেকে ৫০টি অ্যাপ সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এই সব অ্যাপে ম্যালওয়্যারের সন্ধান মিলেছিল। একাধিক সুরক্ষা রিপোর্টে জানানো হয়েছে এই ধরনের ক্ষতিকর অ্যাপের হাত ধরেই লাখ লাখ ডিভাইসে পৌঁছে যাচ্ছে Joker, FaceSteller I Kooper -এর মতো ভয়ঙ্কর ম্যালওয়্যারগুলি।

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন