আগরতলা ইমিগ্রেশনের নতুন নিয়মে ভোগান্তিতে বাংলাদেশি যাত্রীরা

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:০৩

আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা ভ্রমণে নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে। ভ্রমণ ভিসায় ৩০ দিনে এক বার ও ব্যবসার ভিসায় সাত দিনে এক বার ভারতে ঢোকার নতুন নিয়ম বেঁধে দিয়েছেন আগরতলা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। এতে নতুন করে ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই দেশে যাতায়াত করা যাত্রীরা। গত এক সপ্তাহে ১৫ জন বাংলাদেশি যাত্রীকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে আগরতলা ইমিগ্রেশন। তবে বাংলাদেশের ভারতীয় হাইকমিশন বলছে, এ ধরনের কোনো নিয়ম তাদের দেওয়া নেই।

আখাউড়া ইমিগ্রেশনের পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভ্রমণ, চিকিৎসা ও ব্যবসায়ী ভিসায় আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাতায়াত করেন বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ। ভারত সরকার বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য ভ্রমণ ও চিকিৎসা ভিসা ছয় মাস থেকে এক বছর এবং ব্যবসা ভিসা তিন থেকে পাঁচ বছর মেয়াদে দিয়ে থাকে। এতদিন যাত্রীরা এসব ভিসায় বিনা বাধায় আখাউড়া-আগরতলা স্থলপথ দিয়ে ভারতে যাতায়াত করতেন। কিন্তু গত ২৭ আগস্ট থেকে এই স্থলপথে নতুন নিয়ম চালু হয়েছে। আখাউড়া দিয়ে ভারত ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটন ভিসায় মাসে (৩০ দিনে) এক বার ও ব্যবসায়ী ভিসায় সাত দিনে এক বার ভ্রমণের নিয়ম চালু হয়েছে। নতুন নিয়মের আওতায় ২৭ আগস্ট থেকে পর্যটন ভিসার ১৫ যাত্রীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে আগরতলা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।

গত ৩০ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নরসিংসার গ্রামের রায়হান উদ্দিন ভ্রমণ ভিসায় আখাউড়া বন্দর দিয়ে ভারতের আগরতলা ইমিগ্রেশনে যান। কিন্তু আগরতলা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠান। কারণ, তিনি ১০ আগস্ট ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন। ৩০ দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় ভ্রমণ হওয়ায় তাকে ফেরত পাঠানো হয়। ঐ দিন সকালে তিনি আখাউড়া ইমিগ্রেশন পুলিশ চেকপোস্টে পৌঁছে বহির্গমনের নির্ধারিত ফরম পূরণ করেন। আখাউড়া ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তার পাসপোর্টে বহির্গমন মোহর যুক্ত করে দেয়। আগরতলা ইমিগ্রেশন থেকে তাকে ফেরত পাঠানোর পর এই বিষয়ে তিনি আখাউড়া ইমিগ্রেশন ইনচার্জ বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগও দেন। একই অভিযোগ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার হরষপুরের অজিত দাস নামের এক যাত্রী। তিনিও আখাউড়া ইমিগ্রেশন ইনচার্জ বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

আখাউড়া স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. রাজিব উদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, ‘মালামাল রপ্তানির সময় ব্যবসায়ীদের প্রায় প্রতিদিনই আগরতলা গিয়ে সেখানকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলতে হয়। এখন এই নিয়ম চালু থাকলে ব্যবসায়ীদের সমস্যা হবে। ব্যাবসায়িক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটবে।’ আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) দেওয়ান মোর্শেদুল হক বলেন, ‘পূর্ব কোনো ঘোষণা ছাড়াই আগরতলা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ভ্রমণ ভিসার বাংলাদেশি যাত্রীদের ফেরত পাঠাচ্ছেন।’ এ বিষয়ে ভারতের আগরতলা স্থলবন্দরের ম্যানেজার দেবাশীষ নন্দী বলেন, ‘ভ্রমণ ভিসায় যাত্রীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি।

চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব উদিত ঝা বলেন, ‘মাসে এক বার ভ্রমণ করতে পারবে এরকম কোনো নিয়ম আমাদের দেওয়া নেই। ভ্রমণ ভিসার বাংলাদেশি যাত্রীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি জানা নেই, তবে খোঁজখবর নিয়ে দেখব।’ 

 

ইত্তেফাক/ইআ