চট্টগ্রামে ব্যস্ততম মোড়গুলো ‘মৃত্যুকূপ’, পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:০৩

নগরীর ব্যস্ততম জংশনগুলোতে রাস্তা পারাপারে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। কোথাও পথচারী নিরাপদে পারাপারের জন্য জেব্রা ক্রসিং নেই। ব্যস্ততম মোড়গুলো মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার করছেন পথচারীরা। এক সময়ে বিভিন্ন স্থানে জেব্রা ক্রসিং থাকলেও এগুলো অনেক আগেই বিলীন হয়ে গেছে। অধিকাংশ স্কুল-কলেজের সামনেও নেই জেব্রা ক্রসিং। সিটি করপোরেশন নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ৩৮টি জংশনের ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের একটি প্রকল্প নিয়েছে। প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের প্রায় এক বছর হলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী চট্টগ্রাম। নগরীর ব্যাপক জনসমাগম স্থানগুলোতে মানুষের পদচারণা ক্রমশ বেড়েছে। যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল ও ওভারটেক করে চলাচলের প্রবণতার কারণে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে। গাড়ির নিচে পড়ে বা ধাক্কা লেগে পথচারীরা হতাহত হচ্ছে। জংশনগুলোতে বাসযাত্রী উঠানামার জন্য বেপরোয়া প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। এতে পথচারীরা দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। ব্যস্ততম স্থানগুলোতে পথচারী পারাপারের কোনো নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করে দেওয়া হয়নি। এখানে রাস্তার দুই পাশে কোথাও কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনিও নেই। ফলে পথচারীরাও ইচ্ছামতো যেখানে সেখানে রাস্তা পার হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। নগরীর রাহাত্তার পুল ও কালা মিয়া বাজার ওভারব্রিজ ও বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার থেকে এক কিলোমিটার নামার পথে নেই স্পিটব্রেকার।

এ কে খান মোড়, চট্টগ্রাম।

নগরীর ব্যস্ততম ঝুঁকিপূর্ণ জংশনের মধ্যে রয়েছে জিইসি মোড়, লালখান বাজার ইস্পাহানি মোড়, টাইগার পাস, এ কে খান গেইট, নিউমার্কেট, কোতোয়ালি মোড়, আন্দরকিল্লা, বহদ্দারহাট, দুই নম্বর গেইট, আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়, দেওয়ানহাট, চৌমুহনী, চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস মোড়, সিমেন্ট ক্রসিং ও কর্ণফুলী সেতুর উত্তর পাস ও মইজ্জ্যাটেক। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ ও মহসিন কলেজ ও সরকারি মুসলিম হাই স্কুলের সম্মুখ সড়ক।

সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, রাস্তায় জেব্রা ক্রসিং দেওয়ার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। পুলিশ দেখবে কেউ আইন ভঙ্গ করছেন কি না। নগরীতে বর্তমানে মুরাদপুর মোড়ে একটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। নিরাপত্তা বেষ্টনি দেওয়া হয়েছে। ফলে পথচারীরা ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করছে। ফলে এখানে আগের মতো দুর্ঘটনাও ঘটে না, যানজট হয় না। এছাড়া নগরীর দামপাড়া বাওয়া স্কুলের সামনে প্রধান সড়কে একটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু মোড় থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় পথচারীদের ব্যবহার কম। নিউমার্কেট ও নতুন রেল স্টেশনের পাশে দুটি ফুটওভারব্রিজ থাকলেও ব্যবহার নেই। ভাসমান মানুষ এই দুটি ফুটওভারব্রিজের ওপর বসবাস করে। রয়েছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। এখানে রাস্তায় পথচারী পারাপার বন্ধে প্রতিরোধক ব্যবস্থা না থাকায় ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার হচ্ছে না।

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ জংশনে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রায় এক বছর  আগে একনেকে একটি প্রকল্প পাশ হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নগরীতে ৩৮টি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৪ সাল পর্যন্ত । প্রকল্পের নির্মাণকাজ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে করার কথা থাকলেও এখন স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রকল্পের পিডি হিসেবে এলজিইডির এক প্রকৌশলীকে নিয়োগ দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এখন প্রকল্পের কনসালটেন্ট নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। অর্থ বছরে প্রকল্পের জন্য ৫০২ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। তবে টাকা এখনো ছাড় পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্মাণকাজ শুরু হবে। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এখন প্রকল্পের নতুন পিডি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা আগে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে জেব্রা ক্রসিং করেছিলাম। এখন যেসব জায়গায় নেই সেখানে আবার জেব্রা ক্রসিং দেওয়া হবে।’

ইত্তেফাক/ইআ