রোববার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আগস্টে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ৩৬ শতাংশ

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৩১

অর্থবছরের দ্বিতীয় মাসেও রপ্তানি আয়ে সুখবর মিলেছে। সদ্য শেষ হওয়া আগস্ট মাসে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ৪৬০ কোটি ৭০ লাখ (৪.৬০ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ৪৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। রপ্তানির এই অঙ্ক গত বছরের আগস্টের চেয়ে ৩৬ দশমিক ১৮ শতাংশ বেশি। আর মাস ভিত্তিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি। মূলত তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর ভর করেই গত অর্থবছরের মতো এবারও রপ্তানি খাতে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) পণ্য রপ্তানি থেকে ৮৫৯ কোটি ১৮ লাখ ডলারের আয় এসেছে, যা গত ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৫ দশমিক ৩১ শতাংশ বেশি। 

গতকাল রবিবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আমদানি বেড়ে যাওয়ায় ডলারের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেটা কিছুটা হলেও কমে আসবে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। তবে দেশের রপ্তানি পণ্যের বেশির ভাগ কাঁচামাল আমদানিনির্ভর। এজন্য রপ্তানি বাড়লে তার প্রভাবে আমদানিও বেড়ে যায়।

ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে এসেছে ৭১১ কোটি ২৬ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৬ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। করোনার প্রভাবে টানা দুই বছর স্থবিরতা কাটিয়ে উঠার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এর প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে রপ্তানি আয় কমবে বলে আশঙ্কা করছিলেন রপ্তানিকারকরা। কিন্তু তৈরি পোশাকের ওপর ভর করে রপ্তানি বেড়েছে। 

ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে ৪৬০ কোটি ৭০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৩০ কোটি ডলার। গত বছরের আগস্টে রপ্তানি হয়েছিল ৩৩৮ কোটি ৩১ লাখ ডলারের পণ্য। এ হিসাবেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। আর প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। উল্লেখ্য, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫৮ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। মূলত পোশাক রপ্তানির ওপর ভর করেই জুলাই-আগস্ট সময়ে রপ্তানি আয়ে উল্লম্ফন হয়েছে। 

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাই-আগস্ট সময়ে মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে ৮২ দশমিক ৭৮ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক থেকে। যার মধ্যে নিট পোশাক থেকে এসেছে ৩৯১  কোটি ডলার। ওভেন পোশাক থেকে এসেছে ৩১৯ কোটি ডলার। তবে তৈরি পোশাকের বাইরে পাট রপ্তানিতেও ইতিবাচক অবস্থা লক্ষ করা গেছে। জুলাই-আগস্ট সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে ১৫ কোটি ৬৬ লাখ ডলার দেশে এসেছে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ কম এসেছে। অন্যান্য খাতের মধ্যে জুলাই-আগস্ট সময়ে হোম টেক্সটাইল রপ্তানি থেকে ২৬ কোটি ৮৫ লাখ ২০ হাজার ডলার এসেছে। এই খাতে প্রবৃদ্ধি ৫৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। ২২ কোটি ৩২ লাখ ৩০ হাজার ডলার এসেছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি থেকে। দুই মাস ভিত্তিতে এ খাতে রপ্তানি বেড়েছে ২৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এছাড়া এই দুই মাসে স্পেশালাইজড টেক্সটাইল রপ্তানি থেকে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ১০ হাজার ডলার, বাইসাইকেল রপ্তানি থেকে ২ কোটি ৪৯ লাখ ২০ হাজার ডলার, প্লাস্টিক পণ্য থেকে ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। তবে জুলাই-আগস্ট সময়ে রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান খাত হিমায়িত মাছ ও কৃষিপণ্য থেকে রপ্তানি আয় কমেছে। সেই সঙ্গে ওষুধ রপ্তানি থেকেও আয় কমেছে। হিমায়িত মাছ রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৮ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার, কমেছে ৭ দশমিক ২১ শতাংশ। কৃষিপণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ১৭ কোটি ৮২ লাখ ২০ হাজার ডলার, কমেছে ১৪ শতাংশ। ওষুধ রপ্তানি থেকে ২ কোটি ৭৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার আয় হয়েছে। যা গত বছরের জুলাই-আগস্টের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম।

ইত্তেফাক/ইআ