অর্থনীতি চাঙা করার পাশাপাশি সড়ক নেটওয়ার্ক বাড়াবে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩:৩৯

চলতি মাসের শেষে বা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে চালু হতে পারে ছয় লেনের তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু। এই সেতু নারায়ণগঞ্জ শহরকে বন্দর উপজেলার সাথে সংযুক্ত করার মাধ্যমে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে এবং পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলো ও চট্টগ্রামের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সেতুটির প্রকল্প পরিচালক শোয়েব আহমেদ জানিয়েছেন, সেতুটি উদ্বোধনের পর দেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে চাঙ্গা হবে কারণ এটি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে যানবাহনের যাতায়াতে সময় কমাবে। ১.২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি চালু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্যে চলাচলকারী যানবাহনগুলো নারায়ণগঞ্জ শহরকে বাইপাস করতে পারবে এবং যানজট এড়াতে ও সময় বাঁচাতে সক্ষম হবে। পদ্মা সেতুর সঙ্গে সড়কগুলো পুনঃসংযোগ দিলে দেশ এ সেতু থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা পাবে।

তিনি জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরে সেতুটি যানবাহনের জন্য খুলে দেওয়ার কথা ছিল। তবে বেশির ভাগ কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হওয়ায় সময়সীমার তিন মাস আগে এই মাসের শেষের দিকে বা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে এটি উদ্বোধন করা হবে। সেতুটি পূর্বে বন্দর উপজেলার মদনগঞ্জ এবং পশ্চিমে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সৈয়দপুরের সঙ্গে যুক্ত হবে। 

প্রকল্প পরিচালক বলেন, প্রকল্পটি ২০১০ সালে একনেকে অনুমোদন পেলেও ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি নির্মাণকাজ শুরু হয়। সেতুর টোল প্লাজার পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে শুধুমাত্র অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণের কাজ চলমান থাকায় দুটি সার্ভিস লেনসহ সেতুর ৯৭ শতাংশ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।সেতুটি নির্মাণে ৬০৮.৫৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬৩.৩৬ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকারের তহবিল থেকে এবং ৩৪৫.২০ কোটি টাকা সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) থেকে এসেছে।
ওয়াকওয়েসহ সেতুটিতে ৩৮টি স্প্যান রয়েছে। এগুলোর মধ্যে পাঁচটি নদীতে এবং ৩৩টি পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে। হাঁটার পথসহ সেতুটির প্রস্থ ২২.১৫ মিটার। এছাড়া ছয় লেনের টোল প্লাজা এবং দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ অ্যাপ্রোচ রোডও নির্মাণ করা হচ্ছে।

শীতলক্ষ্যা নদী বন্দর উপজেলা ও সোনারগাঁ উপজেলাকে জেলা সদর থেকে পৃথক করেছে। এ দুটি উপজেলা সরাসরি সড়কপথে জেলা সদরের সাথে সংযুক্ত নয়। দুই উপজেলা থেকে জেলা সদরে যেতে কাঁচপুর ব্রিজ (শীতলক্ষ্যা-১ সেতু) ব্যবহার করতে হয়। এজন্য সড়কপথে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। অথচ নৌপথে এই দূরত্ব মাত্র ৩ থেকে ৫ কিলোমিটার।,বন্দর উপজেলায় বসবাসকারী কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে কাজের জন্য নৌকায় করে শীতলক্ষ্যা নদী পার হয়। একইভাবে নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ থেকেও মানুষ নৌকায়  শীতলক্ষ্যা নদী পাড়ি দিয়ে বন্দর বা সোনারগাঁ উপজেলায় আসে। নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতুটি বন্দর উপজেলা ও জেলা সদরের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করবে। ন্যাশনাল হাইওয়ে-১, ন্যাশনাল হাইওয়ে-২ এবং ন্যাশনাল হাইওয়ে-৮ হয়ে যাতায়াতের জন্য  যথেষ্ট সংখ্যক যানবাহনের চলাচলে সেতুটি একটি বাই-পাস দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সেতুটি ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক (জাতীয় মহাসড়ক-১), ঢাকা-সিলেট রোড (জাতীয় মহাসড়ক-২), ঢাকা-ময়মনসিংহ রোড ইত্যাদি থেকে খুলনা, যশোর, বেনাপোল, মংলা, বরিশাল এবং অন্যান্য স্থানে যাতায়াতের জন্য মদনগঞ্জ-সৈয়দপুর-মুক্তারপুর, মুন্সীগঞ্জ-টঙ্গীবাড়ী-লৌহজং ও মাওয়া হয়ে মোগরাপাড়া, মদনপুর, কাঁচপুর ও ডেমরাকে সংযুক্ত করবে।-বাসস

ইত্তেফাক/ইআ