১১ দিনেও খোঁজ মেলেনি গৃহবধূ রহিমার

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:৩৩

গত ১১ দিনেও খোঁজ মেলেনি খুলনায় নিজ বাসা থেকে নিখোঁজ গৃহবধূ রহিমা বেগমের (৫৫)। তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছেন তার সন্তানরা। কখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কখনো মাইকিং, কখনো আত্মীয়স্বজনদের দ্বারস্থ হচ্ছেন তারা। মামলাও করেছেন। কিন্তু কেউই তার সন্ধান দিতে পারছে না।

নিখোঁজ গৃহবধূর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট রাত আনুমানিক ১০টায় খুলনা মহানগরীর মহেশ্বরপাশার উত্তর বণিকপাড়ার নিজ বাসা থেকে টিউবওয়েলে পানি আনতে দোতলা থেকে নিচে নামেন রহিমা বেগম। এরপর আর ঘরে ফেরেননি তিনি। স্বামী ও ভাড়াটিয়ারা নলকূপের পাশে ঝোপঝাড়ে তার ব্যবহৃত ওড়না, স্যান্ডেল ও বালতি দেখতে পান। সেই রাতে মাকে খুঁজতে আত্মীয়স্বজন, আশপাশসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেন সন্তানরা। এরপর গত ১১ দিন কেটে গেছে। কিন্তু তার সন্ধান মেলেনি।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ২০ শতক জমির মালিক রহিমা বেগম। শরীকদের জমি দেওয়ার পর ২০১৯ সালে তার বাড়ির বিপরীত পাশে অবস্থিত গোলাম কিবরিয়া ও হেলাল শরীফের কাছে ৪ দশমিক ৮৬ শতক জমি বিক্রি করেন। এরপর মামলা-পালটা মামলা, হুমকি-পালটা হুমকির ঘটনা ঘটে একাধিকবার। এ নিয়ে গত প্রায় তিন বছর ধরে দুই পক্ষের মধ্যে চলছে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব। এদিকে ঘটনার রাতের সিসি ক্যামেরার একটি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৯টা ৪৯ মিনিটের সময় বাড়ির সামনে কিছু সময় দাঁড়িয়ে ছিলেন রহিমা। এরপর আবার ভেতরে চলে যান। পরদিন সকাল পর্যন্ত ফুটেজে তাকে আর বের হতে দেখা যায়নি।

নিখোঁজ রহিমা বেগমের মেয়ে মরিয়ম আক্তার অভিযোগ করে বলেন, গোলাম কিবরিয়া তাদের মায়ের ওপর হামলা চালালে এক বছর আগে একবার তারা মাকে নিয়ে অন্যত্র চলে যান। এখন তারা আমাদের মাকে অপহরণ করে গুম করেছে। জানি না মা বেঁচে আছে কি না। নিখোঁজ রহিমা বেগমের বড় মেয়ে কানিজ ফাতেমা বলেন, পুলিশ ও র‍্যাবের কাছে আমরা গিয়েছি। এছাড়া বিভিন্ন ভাবে খুঁজছি। থানায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরি ও পরে অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলাও করেছি।

অভিযুক্ত হেলাল শরীফ বলেন, সারা রাতের সিসি টিভির ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা গেছে রহিমা রাত ১০টার কিছু সময় আগে বাড়ির বাইরে এসে আবার ভেতরে ফিরেও গেছেন। তাহলে আমাদের ওপর কেন দোষ চাপানো হচ্ছে? মনে হচ্ছে, আমাদের ঘায়েল করার জন্য তারা সবাই মিলে তাদের মাকে লুকিয়ে রেখেছে অথবা তাদের মা স্বেচ্ছায় অন্যত্র চলে গেছে। অভিযুক্ত গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমাদের কাছ থেকে জমি বাবদ টাকা নিয়ে জমি বুঝিয়ে দেয়নি। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় রহিমা বেগম হুমকিও দিয়েছেন। আমাদের নামে মামলাও করেছেন। এখন সমাজে নতুনভাবে আমাদের হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এই অপবাদ দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে নগরীর দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে এমন চার জনকে আটক করে সোমবার আদালতে প্রেরণ করেছি। তাদের রিমান্ড মঞ্জুর হলে হয়তো প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

ইত্তেফাক/ইআ