শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আল আমিনের বিরুদ্ধে স্ত্রীর আরেক মামলা 

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৭:৫২

একসঙ্গে বসবাসের অধিকার, মাসিক ভরনপোষণ ও সন্তানদের খরচ দাবি করে জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার আল আমিন হোসেনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করেছেন স্ত্রী ইসরাত জাহান। এর আগে বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) আল আমিনের নামে মিরপুর থানায় যৌতুকের দাবিতে নারী নির্যাতনের একটি মামলা করেছিলেন তার স্ত্রী। 

বুধবার ঢাকার মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিনের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত বাদির জবানবন্দি গ্রহণ করেন। শুনানি শেষে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আল-আমিনকে ২৭ সেপ্টেম্বর  আদালতে হাজির হতে নোটিশ দিয়েছেন। 

ইসরাত জাহানের করা নতুন এই মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক ইসরাত জাহান ও আল-আমিন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দু’টি পুত্র সন্তান রয়েছে। বড় সন্তান মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে ইংরেজী ভার্সনে কেজিতে পড়ালেখা করছে। বেশ কিছুদিন যাবৎ আল আমিন স্ত্রী ও সন্তানদের ভরনপোষণ প্রদান করেন না এবং খোঁজখবরও নেন না। তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের এড়িয়ে যাচ্ছেন। যোগাযোগও করেন না। গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ১০ টার দিকে আল আমিন বাসায় এসে স্ত্রীর কাছে যৌতুকের জন্য ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। ইসরাত জাহান টাকা দিতে অস্বীকার করলে আল-আমিন তাকে এলোপাথাড়ি কিল ঘুষিসহ লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। সংসার করবে না বলেও জানিয়ে দেন আল-আমিন। ইসরাত জাহান ৯৯৯-এ টেলিফোন করে সাহায্য চাইলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। এরপর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয় ইসরাত জাহানকে। এ ঘটনায় ১ সেপ্টেম্বর মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলাও হয়।

সেই মামলা নিয়ে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাজিরুর রহমান জানিয়েছিলেন, 'বৃহস্পতিবার ৯১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ক্রিকেটার আল আমিনের স্ত্রী থানায় অভিযোগ করার পর আমরা তাদেরকে আপোষ করার সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু এ ব্যাপারে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে আপোষ না হওয়ায় রাতেই মামলা হিসাবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। মামলাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।'

সেই মামলার পরই আল আমিনকে গ্রেপ্তার করার জন্য তার মিরপুরের বাসায় অভিযান চালালেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা জানিয়েছিলেন, মিরপুর ২ নম্বর সেকশনের ২ নম্বর রোডের ১০ নম্বর প্লটের নয় তলা ভবনের ৭/ডি নম্বর ফ্ল্যাটে আল আমিন সপরিবারে থাকেন। ওই ফ্ল্যাটের মালিক আল আমিন। তবে ফ্ল্যাটের মূল্য বাবদ ৩০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। আল আমিনের দুই ছেলে সন্তানের বয়স যথাক্রমে ৬ ও ২ বছর। ওই ফ্ল্যাটে আল আমিনের স্ত্রী ও দুই সন্তান বর্তমানে থাকছেন। তবে তাকে গ্রেফতারের জন্য আমাদের অভিযান চলছে।

ঐসময় আল আমিনের স্ত্রী ইসরাত জাহান জানান, ‘সে অন্য মেয়ে নিয়ে থাকে, ২৫ আগস্ট আমাকে মারধর করেছে। তাই অভিযোগ দায়ের করেছি থানায়। তবে আমি আপস করতে চাই, আবারও সংসার করতে চাই।’ 

এরপর গত ৩ সেপ্টেম্বর আল আমিন তার মায়ের মাধ্যমে জানান, ইসরাতের সাথে সংসার করবে না এবং সন্তানদের ভরনপোষণের খরচ দিবেন না। প্রয়োজনে স্ত্রীকে তালাক দিবেন তিনি।

এদিকে, মহানগর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে করা নতুন মামলায় আরও বলা হয়েছে, পরকীয়ায় আসক্তির কারণেই আল আমিন এমন কাজ করেছে এবং এক  নারীর সাথে উঠানো ছবি ইসরাতের কাছে পাটিয়েছে সে নিজেই।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, আল-আমিন স্ত্রী-সন্তানদের বাসা থেকে বের করে অন্যত্র বিয়ে করবেন বলে জানান। দু’বছর যাবৎ আসামি আল আমিন তার স্ত্রী মামলার বাদি ইসরাত জাহানের খোঁজখবর নেন না এবং বাসায় নিয়মিত থাকেন না। যার কারণে ইসরাত তার দু’সন্তানসহ বসতবাড়িতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করার অধিকারসহ মাসিক ভরনপোষণের টাকা দাবি করে মামলাটি দায়ের করলেন। জীবন ধারণের জন্য মাসিক ৪০ হাজার, দুই সন্তানের ভরনপোষণ ও ইংলিশ মিডিয়ামে লেখাপড়াবাবদ ৬০ হাজার টাকা আল-আমিনের কাছে পাওয়ার হকদার বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

- বাসস

ইত্তেফাক/এসএস