কোনো পণ্যের দাম বাড়াতে হলে তার পক্ষে যৌক্তিক কারণ দেখাতে হবে কোম্পানিগুলোকে। যৌক্তিকভাবে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এজন্য শিগিগরই বিভিন্ন কোম্পানির কারখানাতে অভিযান চালানো হবে।
গতকাল বুধবার ভোক্তা ও নিত্যব্যবহার্য পণ্য সাবান, ডিটারজেন্ট, টুথপেস্ট ইত্যাদি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভায় ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান এ কথা বলেন। তিনি বলেন, কোনো পণ্যের দাম বাড়াতে হলে তার পক্ষে যৌক্তিক কারণ থাকতে হবে। সেজন্য কোম্পানিগুলোর কারখানাতে আমরা যাব। কত দামে কাঁচামাল আমদানি হচ্ছে, কোন পণ্য উৎপাদনে কত খরচ হচ্ছে এবং কোন পণ্য কী দামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে সেগুলো আমরা বিশ্লেষণ করতে চাই। তিনি বলেন, পণ্যের যৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে কি না, সেটা আমরা দেখতে চাই। কারণ, বাড়তি দামে নিত্যব্যবহার্য পণ্য কিনতে ভোক্তাদের কষ্ট হচ্ছে।
রাজধানীর কাওরানবাজারস্থ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ইউনিলিভারের সিএফও জাহিদ মালিথা, স্কয়ারের হেড অব অপারেশন মালিক সাইদ, এসিআইয়ের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ পলাশ হোসাইন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিভিন্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, ডলার ও কাঁচামালের দামসহ উৎপাদন খরচ যে পরিমাণ বেড়েছে তাতে পণ্যের দাম আরও বাড়ানো দরকার। যদিও তারা ভোক্তাদের কথা বিবেচনায় রেখে সে পরিমাণ দাম বাড়াতে পারছেন না।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজারের তথ্য তুলে ধরে জানায়, ২০২০ সালে আধা কেজির ডিটারজেন্টের দাম ছিল ৬০ টাকা, সেটি এখন ৯০ টাকা। ৫২ টাকার সাবানের দামও এখন ৭৫ টাকা। অর্থাৎ এ দুই পণ্যের দাম বেড়েছে ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত। এর কারণ হিসেবে কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা বলেন, তাদের টয়লেট্রিজ পণ্যের ৮০ শতাংশ কাঁচামালই আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত।
সভায় কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) প্রতিনিধি কাজী আব্দুল হান্নান বলেন, ব্র্যান্ড-ভ্যালু আর মানুষের ইমোশনকে পুঁজি করে বড় কোম্পানিগুলো ভোক্তাদের ব্ল্যাকমেইল করছে কি না, সে বিষয়ে নজরদারি করা উচিত।
