চট্টগ্রামে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল দুপুরে হঠাৎ বৃষ্টির তীব্রতা বেড়ে গেলে বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যাওয়ায় পথচারীরা ভোগান্তিতে পড়েন। কোনো কোনো এলাকায় সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশিদ ইত্তেফাককে জানান, গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় নগরীতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল মাত্র ৪ দশমিক ৬ মিলিমিটার। আজও চট্টগ্রামে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নগরীতে পাহাড়ধসের আশঙ্কাও রয়েছে।
এদিকে, গত দুই সপ্তাহ ধরে ভ্যাপসা আবহাওয়ায় নাকাল ছিলেন নগরবাসী। টানা গরমের পর সামান্য বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি দিলেও ভোগান্তিও কম ছিল না। বৃষ্টিতে নগরীর চকবাজার, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, রাহাত্তারপুল, চাঁদগাঁও, বাকলিয়া, চাক্তাই, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, আগ্রাবাদ এবং হালিশহরের নিচু এলাকায় রাস্তায় পানি জমে যায়। এসময় যানবাহন স্বল্পতার কারণে বিপাকে পড়েন সাধারণ মানুষ। রিকশা ও অটোরিকশাচালকরা বৃষ্টির অজুহাত দেখিয়ে ইচ্ছামতো ভাড়া দাবি করেন। বৃষ্টির মধ্যেই লোকজনকে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। রাস্তায় পানি জমে থাকায় খানাখন্দে পড়ে পথচারীরা দুর্ঘটনায় পড়েন।
এদিকে, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নগরীতে পাহাড় ধসের আশঙ্কাও রয়েছে। কিছু দিন আগে টানা বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে বেশ কয়েক জন হতাহত হওয়ার পর পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা উচ্ছেদ ও বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়। তবে বর্তমানে সেই উদ্যোগে ভাটা পড়েছে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে পুরোনো বাসিন্দারা আবার পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ বাসস্থানে ফিরে যাচ্ছেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ১৭টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে ৮৩৫টি পরিবার বসবাস করছে। অত্যাধিক ঝুঁকিপূর্ণভাবে ব্যক্তিমালিকানাধীন ১০টি পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা ৫৩১। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ে অবৈধ বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা ৩০৪। এসব পাহাড়ে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা পাঁচ হাজারের অধিক। স্থানীয় প্রভাবশালীরা নির্বিচারে পাহাড় কাটছে। ফলে বৃষ্টি হলেই পাহাড়ের মাটি ধসে দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনার পর প্রশাসন কিছুটা তৎপরতা দেখালেও যতই দিন গড়ায় ততই তাদের তৎপরতা কমতে থাকে।
২০০৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে ২০০৭ সালের ১১ জুন টানা বর্ষণের ফলে নগরীর কুসুমবাগ ও ভাটিয়ারি এলাকায় পাহাড়ধসে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়। পরের বছর লালখান বাজার টাঙ্কি পাহাড়ে ভূমি ধসে মারা যায় ১১ জন। ২০১৭ সালে মারা যান ৩০ জন। সর্বশেষ গত জুন মাসে নগরীর দুটি স্থানে পাহাড় ধসে পাঁচ জন নিহত হয়েছে।
