সলিমপুরে পাহাড়ি খাসজমি বরাদ্দ পেতে দৌড়ঝাঁপ, বিজিএমইএ চায় ২১০ একর

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:৩৩

দীর্ঘ কয়েক দশক পর জঙ্গল সলিমপুরে ৭০০ একর সরকারি খাসভূমি অবৈধ দখলমুক্ত করেছে জেলা প্রশাসন। বহু মূল্যবান এসব জমিতে বেসরকারি স্থাপনা নির্মাণের জন্য অনেকের নজর পড়েছে। অবৈধ দখলমুক্ত হওয়া সরকারি ভূমি বরাদ্দ পেতে এখন প্রভাবশালীরা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে উদ্ধার করা জমিতে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রায় ২৩টি প্রতিষ্ঠান জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন। জঙ্গলসলিমপুরে ৫ মৌজায় পাহাড় ও গাছপালা বেষ্টিত ৩ হাজার ১০০ একর খাস ভূমি রয়েছে। এখনো ৮৮ একর জমি অবৈধ দখলে রয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন মো. মমিনুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘সলিমপুরে উদ্ধার করা জায়গা নিয়ে মাস্টার প্ল্যান করেছি। দখলমুক্ত করা সরকারি খাস জমিতে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের জন্য অনেকেই আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ ভূমি পাহাড় ও বন রক্ষা করে, পরিবেশ ও প্রতিবেশের  ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে সবুজায়নের মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর উদ্ধার হওয়া ভূমির ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে।’

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পাঁচটি মৌজার ৩ হাজার ১০০ একর সরকারি খাস ভূমি রয়েছে। পাহাড় ও গাছপালাবেষ্টিত এসব জায়গার বিশাল একটি অংশ গত তিন দশক ধরে চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমন্বয় পরিষদ নামের ব্যানারে কিছু লোক অবৈধভাবে দখল নিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করেছে। ভূমিদখলদাররা জঙ্গল সাফ করে প্লট তৈরি করে বিক্রি করে আসছিল। দখল হাতবদলের মাধ্যমে তারা কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করেছে। কাঁচা ও পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে নিম্ন আয়ের মানুষদের ভাড়া দেওয়া হয়েছে। অবৈধভাবে পানি, বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এখানে প্রায় ১৯ হাজার মানুষ বসবাস করে আসছিল। দখলকৃত এলাকাটি মাদকসেবী, বিক্রেতা ও সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানা ছিল। অবশেষে চট্টগ্রামের বর্তমান জেলা প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে অবৈধ দখলে থাকা সরকারি ৭০০ একর খাস জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে তা দখলে নিয়েছে। কিন্তু দখলমুক্ত হওয়ার পরই এসব খাসজমি বরাদ্দ নিতে প্রভাবশালীরা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে।

সলিমপুরে ব্যবহার উপযোগী ভূমিতে পুলিশের চেকপোস্ট, আনসার-ভিডিপি ও র‍্যাবের ক্যাম্প কার্যালয়, স্পোর্টস ভিলেজ, ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের জন্য আবাসন ব্যবস্থা, কারাগার, আর্মি স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য আবেদন জমা পড়েছে। এছাড়া ব্যবহার উপযোগী ভূমির মধ্যে ৫৭ একর নাইট সাফারি পার্ক নির্মাণের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ১০ একর ভূমি বরাদ্দ চেয়েছেন। এছাড়া স্বতস্ত্র গার্মেন্টস জোন স্থাপনের জন্য সংগঠনটি সরকারের কাছ থেকে ২০০ একর জমি বরাদ্দ চেয়েছে। তারা নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে থাকা গার্মেন্টস কারখানাগুলো সলিমপুরে স্থানান্তরের আবেদন করেছেন। বিজিএমইএ সূত্র জানায়, মিরসরাই এলাকায় বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরীতে তৈরি পোশাক কারখানা করার জন্য ৫০০ একর জায়গার অনুমোদন পেয়েছে তারা। ইতিমধ্যে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইপিজেড এলাকার বাইরে শিল্পকারখানা স্থাপন করলে গ্যাস ও বিদ্যুত্সংযোগ দেওয়া হবে না।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. জাহাঙ্গীর আলম ইত্তেফাককে বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীতে উন্নয়ন কার্যক্রম কোনো পরিকল্পনার আলোকে হচ্ছে না। কর্ণফুলীতে নির্মিত টানেল চালু হলে শিল্পায়ন ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। মিরসাইয়ে শিল্প নগরী হচ্ছে। তাই সরকারের উচিত এখনই টানেল থেকে টেকনাফ ও কুমিল্লা পর্যন্ত মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা এবং কোন জায়গায় কোন স্থাপনা উপযোগী তার আলোকে তা করতে হবে।’

 

ইত্তেফাক/ইআ