গতকাল আফগানিস্তানকে হারিয়ে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে এশিয়া কাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। সেইসঙ্গে ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গিয়েছিল ভারত আর আফগানিস্তানের। তবে বিদায়ের আগে আজ এই দুই দলের লড়াইটা ছিল শুধুই নিয়মরক্ষার। তবে কোহলির সেঞ্চুরি সাদামাটা সেই ম্যাচে এনে দিয়েছে উত্তেজনা। প্রায় ১ হাজার ২০ দিনের সেই অপেক্ষার পর একদিকে কোহলি পৌঁছেছেন তিন অঙ্কের ইনিংসে, অন্যদিকে আফগানিস্তানে বিপক্ষে ১০১ রানের বিশাল জয়।
কোহলির ১২২ রানের ঝড়ো ইনিংস আর ভুবনেশ্বরের সুইংয়ে টিম ইন্ডিয়ার ২১২ রানের পাহাড়। পাহাড়সম সেই রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পরে আফগানিস্তান। আর সেই অবদানটাও ভুবনেশ্বর কুমারের। নিজের প্রথম ২ ওভারেই হযরতউল্লাহ জাজাঈ, রহমানউল্লাহ গুরবাজ, করিম জানাত ও নাজিবউল্লাহ জাদরানকে সাজঘরে ফেরান তিনি। এদের মধ্যে তিনজন ফেরেন ডাক মেরে। জানাত করেন ২ রান।
আফগানিস্তান শিবিরে পরের হাবা আর্শদীপ সিংয়ের। তার বলে এলবিডব্লিউ হন মোহাম্মদ নবি। আফগান দলপতি ফিরে যান ৭ রান করে। ওমরজাঈয়ের উইকেট দিয়ে ফাইফার পূরণ করেন ভুবি। ওমরজাঈ ক্যাচ দেন দিনেশ কার্তিককে। ইব্রাহিম জাদরান ও রশিদ খানের ৩৩ রানের জুটি ভাঙেন দীপক হোদা। ১৯ বলে রশিদ করেন ১৫ রান। ইব্রাহিমের সঙ্গে মুজিব উর রহমানও ৩৩ রানের জুটি গড়েন, আফগান মিস্ট্রি স্পিনার আউট হন ১৮ রানে। ইব্রাহিম শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৬৪ রানে। এতে মোহাম্মদ নবিদের ইনিংস থামে ১১১ রানে। আর ১০১ রানের বিশাল জয় পায় ভারত।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলো আফগান অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী। নিয়মরক্ষার ম্যাচ বলেই ভারত বিশ্রামে পাঠিয়েছিলো দলের নিয়মিত ওপেনার অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে। তার পরিবর্তে লোকেশ রাহুলের সাথে ভারতের হয়ে ইনিংস ওপেন করতে নামেন কোহলি। দীর্গদিন ধরে ব্যাটে রানখরার পর চলমান এশিয়া কাপ দিয়ে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কোহলি। প্রথম ম্যাচে ত্রিশোর্ধ্ব ইনিংস খেলার পর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ আর সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে পেয়েছেন টানা ফিফটি। শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার সসঙ্গে কনো রান না করলেও আজ্জ আফগানিস্তানের সাথে পেয়ে গেলেন ভুলতে বসা সেঞ্চুরির স্বাদ।
ইনিংসের শুরু থেকেই আফগান বোলারদের দেখেশুনে খেলতে থাকে রাহুল আর কোহলি। রান তোলার গতি কিছুটা ধীর হলেও উইকেট হারাতে দেননি দুই ওপেনার। ধীরে ধীরে রান তোলার গতি বাড়াতে থাকেন কোহলি আর রাহুল। ১২তম অভারেই দলের রান একশো ছাড়িয়ে যায় ভারতের।
কিন্তু এর পরের ওভারেই প্রথম উইকেট হারায় ভারত। ৪১ বলে ৬২ রান করে ফরিদ আহমেদের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রাহুল। উইকেটে এসে প্রথম বলেই ছয় মেরে শুরু করে পরের বলেই বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন সূর্যকুমার যাদবও। এক ওভারেই দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে ভারত। ক্রিজের ওপর প্রান্তে কোহলি তখন ব্যাট করছেন ৫৬ রান নিয়ে। ভারতের রান তখন ২ উইকেটে ১২৫।
বাকি কাজটা প্রায় একাই করেন কোহলি। বাকি ৭ ওভারে চার নাম্বারে পান্ত বল খেলেছেন মাত্র ১৬ টি, রান করেছেন ২০। আর অন্যদিকে আফগান বোলারদের উপর টর্নেডো বইয়ে দেয়ার কাজটি শুরু করেন কোহলি। আফগানদের ওপর যেন চার-ছয়ের বৃষ্টি ঝরিয়েছেন সাবেক এই ভারতীয় অধিনায়ক।। ১৩ ওভার শেষে যেখানে কোহলির রান ছিলো ৩৫ বলে ৫৬। সেখান থেকে অপরাজিত থেকে কোহলি ইনিংস শেষ করেছেন ৬১ বলে ১২ চার আর ৬ ছয়ে ১২২ রান নিয়ে। শেষ সাত ওভারে ২৬ বল খেলে কোহলি তুলেছেন ৬৬ রান।
কোহলির বিধ্বংসী শতক আর লোকেশ রাহুলের অর্ধশতকে নির্দাহ্রিত ২০ ওভারে শেষে আফগানদের সামনে রানের পাহাড় খাড়া করেছে ভারত।
