অপারেশন ইউনিকর্ন: রানির শেষকৃত্যের যে পরিকল্পনা 

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:৪০

ব্রিটেনের রানির মৃত্যুর পর তার শেষকৃত্য কীভাবে হবে তা যে বহুদিন আগেই ঠিক করে রেখেছে রাজ পরিবার, সে কথা সবারই জানা। তেমনটাই দাবি মার্কিন সংবাদ সংস্থা ‘পলিটিকো’র। বহুদিন ধরেই এই নিয়ে চর্চা রয়েছে। সংবাদ সংস্থাটির দাবি, রানির শেষকৃত্য সংক্রান্ত সম্পূর্ণ গোপন পরিকল্পনার নাম ‘অপারেশন লন্ডন ব্রিজ’। যদিও আজ পর্যন্ত এমন পরিকল্পনা নিয়ে কোনো মন্তব্যই করেনি বাকিংহাম প্যালেস।

তবে রানির মারা যাওয়ার পর সামনে এসেছে ভিন্ন তথ্য। আসলে রানির শেষকৃত্য পরিকল্পনায় একটা বিশেষ বিধান রাখা হয়েছিল। সেটা হলো, তিনি যদি স্কটল্যান্ডে মারা যান তবে তার শেষকৃত্য সংক্রান্ত সম্পূর্ণ গোপন পরিকল্পনার নাম হবে ‘অপারেশন ইউনিরকর্ন’।

ইউনিকর্ন হলো স্কটল্যান্ডের জাতীয় প্রাণি, যা রানির রাজ প্রতীক বা রয়্যাল কোর্ট অব আর্মসের একটি অংশ। ইউনিকর্নের সঙ্গে রয়্যাল কোর্ট অব আর্মসে একটি সিংহও রয়েছে। এই প্রতীক মূলত রাজ্যের শাসকের পরিচয় বহন করে।

দ্য হেরাল্ড পত্রিকার একটি প্রতিবেদন বলছে, ‘অপারেশন ইউনিকর্ন’-এর কথা প্রথমবার শোনা গিয়েছিল ২০১৭ সালে। সে সময় এটি এডিনবার্গ পার্লামেন্টের অনলাইন কাগজপত্রে ব্যবহৃত হয়েছিল, যেখানে রাজা মারা গেলে স্কটল্যান্ডে বিপুলসংখ্যক লোকের আগমনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

বুধবার ওই পত্রিকাটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, এটা বোঝা যাচ্ছিলো, স্কটল্যান্ডে রানি মারা গেলে... সংসদ, হলিরুডহাউস প্রাসাদ এবং সেন্ট জাইলস ক্যাথেড্রালই তার শেষকৃত্যের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হবে।

এর মধ্যে হলিরুডহাউস প্রাসাদটি এডিনবার্গে রানি সরকারি বাসভবন এবং ক্যাথেড্রালটি স্কটিশ রাজধানীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যযুগীয় চার্চগুলির মধ্যে একটি। আর ‘অপারেশন ইউনিকর্ন’ কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব সংসদীয় কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত করা হবে, রাজনীতিবিদরা শোক প্রস্তাব প্রস্তুত করবেন এবং রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত হবেন। রানির শেষকৃত্যকে ঘিরে এসময় হলিরুডে হাজার হাজার লোকের সমাগম হবে। তার স্মৃতিতে সংসদে শোক বইতে স্বাক্ষর করবেন জনগণ।

ওই পত্রিকা আরও জানায়, যদি রানী স্কটল্যান্ডে মারা যান, তাহলে তার দেহ হলিরুডহাউসে রাখা হবে। পরে তার কফিনটি রয়্যাল মাইলের (এডিনবার্গে) ক্যাথেড্রালে নিয়ে যাওয়া হবে। এবং সেখান থেকে তাকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার জন্য এডিনবার্গের ওয়েভারলি স্টেশনে রয়্যাল ট্রেনে রাখা হবে।

এদিকে ‘অপারেশন লন্ডন ব্রিজ’-এর কথা প্রথমবার শোনা গিয়েছিল ২০১৭ সালে। ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এ প্রকাশিত হয়েছিল এই সংক্রান্ত একটি দীর্ঘ নিবন্ধ। তাতে দাবি করা হয়েছিল, কীভাবে এলিজাবেথের মৃত্যুর পরে রাজসিংহাসনে চার্লসকে অভিষিক্ত করার কথা ঘোষণা করা হবে সেন্ট জেমস প্যালেসে তা আগে থেকেই ঠিক হয়ে আছে। সেবারও ব্রিটেনের রাজ পরিবার কোনো মন্তব্য করেনি।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি