মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আবারো বাড়লো ডিমের দাম

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫:২৮

আবারও অস্থির হয়ে উঠছে নিত্যপণ্যের বাজার। সপ্তাহ ব্যবধানে বেড়েছে সবজি, ডিম ও মুরগি দাম। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে বাজারে এসে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। সরবরাহ ঠিক থাকলেও সাত দিনের ব্যবধানে বেড়েছে ডিম, সবজি, মুরগি, মাছের দাম বেড়েছে। তবে কিছুটা কমেছে চালের দাম। শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। 

বাড্ডার বিভিন্ন বাজারে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি সিম, টমেটো ও গাজর ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি পিস লাউ বিক্রি হয়েছে ৬০-৭০ টাকা। প্রতি কেজি বরবটি ৮০-৯০, করোলা ৮০, বেগুন ৬০-৭০, পটোল ৪০-৫০, ধুন্দল ৬০, ঝিঙা ৪০-৫০, ঢেঁড়শ ৪০ এবং প্রতি কেজি শসা বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা। অর্থ্যাৎ সব ধরনের সবজি এক সাপ্তাহে ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। তবে কিছুটা অনেকটা কমছে কাঁচা মরিচের দাম। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজিতে। আলুর কেজি আগের মতোই বাড়তি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি।

সবজির দাম বৃদ্ধি নিয়ে সবজি বিক্রেতা আলম হোসেন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বেশ বৃষ্টি হয়েছে। তাই হযতো সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে। 

গত সপ্তাহে প্রতি ডজন ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও দাম বাড়ায় এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। পাশাপাশি প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮০ টাকা, কক ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা এবং সোনালি মুরগির দাম ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। তবে আগের দামেই ৭০০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস ও প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকায়।   

বিভিন্ন মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৪৫০ টাকা। তেলাপিয়া, পাঙাস মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। শিং মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৬০ টাকা। কৈ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। পাবদা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। আকার ভেদে  চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে চিংড়ি এবং ইলিশ। চিংড়ির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। আর এক কেজি ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা। ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা। আর ৪০০-৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। 

সরকারি সংস্থা টিসিবি বলছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর গত এক মাসের ব্যবধানে চাল, চিনি, মসুর ডাল, শুকনা মরিচ, আদা, জিরা, লবঙ্গ, এলাচ, ইলিশ মাছ, গরুর মাংস, গুঁড়াদুধ, লবণসহ ফার্মের ডিমের দাম বেড়েছে। সাবান, টুথপেস্ট, নারিকেল তেলসহ বিভিন্ন প্রসাধনীর দাম বেড়েছে ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত। আগে আধা কেজির যে ডিটারজেন্টের দাম ছিল ৬০ টাকা, সেটি এখন ৯০ টাকা। ৫২ টাকার সাবানের দামও এখন ৭৫ টাকা হয়েছে। 

রাজধানীর বাজার দর নিয়ে বেসরকারি চাকরিজীবী মো. কাউসার হোসেন বলেন, প্রতিদিন নিত্যপণ্যের দাম নানা আজুহাতে বেড়ে চলছে। আগে নিম্ন আয়ের মানুষ ব্রয়লার খেয়ে মাংসের স্বাদ পূরণ করতো। বর্তমানে এই ব্রয়লারও মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে বেঁচে থাকা কষ্টকর হয়ে যাবে। 

ইত্তেফাক/এনএ/কেকে

ইত্তেফাক/কেকে/এসসি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন