শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

প্রিয় প্রাসাদেই রানির শেষ নিঃশ্বাস 

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৮:৪৫

ডি নদীর পাশ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রকাণ্ড এক রাজপ্রাসাদ। ৫০ হাজার একর বিশিষ্ট বিশাল বালমোরাল প্রাসাদটি ছিল রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের খুব বেশি প্রিয়। স্বামী ফিলিপ আর পরিবার পরিজন নিয়ে স্কটল্যান্ডের আবেরদিনশায়ারের প্রকাণ্ড এই প্রাসাদেই জীবনের বেশিরভাগ গ্রীষ্ম কাটিয়েছেন রানি।

মৃত্যুর মতো চরম সত্য মেনে নিয়েই ৯৬ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। রানি তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন অতি প্রিয় বালমোরাল প্রাসাদেই।

বালমোরাল প্রাসাদে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও তার স্বামী।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা যায়, দাদা রাজা পঞ্চম জর্জ আর দাদি রানি মেরির সঙ্গে শিশুকালে দেখা করা থেকে শুরু। এরপর ৭ দশক ধরে ব্রিটিশ রাজ কর্তৃত্ব সামলানো সম্রাজ্ঞীর জীবনের শেষ সময়সহ জীবদ্দশায় বেশিরভাগ সময়ই কেটেছে ডি নদীর তীর ঘেঁষে থাকা বালমোরালের রাজপ্রাসাদে। 

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ

বালমোরাল প্রাসাদটি ব্রিটিশ রাজপরিবারের কোনো সম্পদ ছিল না। রানির ব্যক্তিগত এই প্রাসাদে বন ও কৃষিজমি্র পাশাপাশি বিচরণ রয়েছে নানা প্রজাতির পশুপাখির। ফারকুহারসন পরিবারের কাছ থেকে ১৮৫২ সালে রানি ভিক্টোরিয়ার স্বামী প্রিন্স আলবার্ট প্রাসাদটি কিনে নেন। সেসময় প্রাসাদটি অবশ্য খুব বেশি বড় ছিল না। পরে ১৮৫৬ সালে সেখানে গড়ে তোলা হয় প্রকান্ড বালমোরাল প্রাসাদ, ভেঙে ফেলা হয় আগের ছোট প্রাসাদটি। এরপর থেকেই ব্রিটিশ রাজপরিবারের অন্যতম বাসস্থান হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে বালমোরাল।

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ

বালমোরাল প্রাসাদটি স্কটিশ ব্যারোনিয়াল স্থাপত্যের নিদর্শন, এছাড়া হিস্টোরিক এনভায়রনমেন্ট স্কটল্যান্ডের ‘ক্যাটাগরি এ’ তালিকার অন্তর্ভুক্ত ভবন। ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর পর পুরো রাজপরিবার একত্রিত হয়েছিলো বালমোরালে।

বালমোরাল প্রাসাদ।

নিজের মতো স্বামী প্রিন্স ফিলিপের জীবনের শেষ সময়গুলোতেই বেশিরভাগ সময় এই বালমোরাল প্রাসাদেই কাটিয়েছেন রানি। করোনা মহামারির লকডাউনের সময়সহ ২০২০ সালে স্বামীর সঙ্গে নিজের ৭৩তম বিবাহবার্ষিকীও প্রিয় বালমোরাল প্রাসাদেই উৎযাপন করেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। অতি প্রিয় এই বালমোরাল প্রাসাদেই অসংখ্য রাজকীয় গার্ডেন পার্টির আয়োজনও করেছেন রানি।

ইত্তেফাক/এসএস/এএএম