অবশেষে দীর্ঘ ২৫ বছর পর রাজধানীর আজিমপুরে অবস্থিত স্যার সলিমুল্লাহ্ এতিমখানা এতিমদের সম্পদ আত্মসাত ও দুর্নীতি অভিযোগে আদালতের নির্দেশে ১৩ জন সদস্যের স্থায়ী সদস্যপদ বাতিল করেছে এতিমখানা কর্তৃপক্ষ। স্যার সলিমুল্লাহ এতিমখানার প্রশাসক ও উপ-সচিব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক আদেশে সকলের সদস্যপদ বাতিল করা হয়।
বাতিল করা সদস্যরা হলেন, এতিমখানার কার্যকরী কমিটির সাবেক সভাপতি বিএনপি’র সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বেগম শামসুন্নাহার, সিলেটের ব্যবসায়ী রাগীব আলী, কার্যকরী কমিটির সাবেক সভাপতি খাজা জাকি আহসান উল্লাহ, সহ-সম্পাদক মঞ্জুর আহমেদ, সম্পাদক আনিসুর রহমান, সদস্য ইকবাল চৌধুরী, সদস্য সাইদুর রহমান, শাহীনা খান, মাহবুবুল হক, কাজী রাজিব উদ্দিন আহমেদ চপল, ইফতেখার উদ্দিন, সহ-সভাপতি ফয়জুর রহমানসহ ১৩ জন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত ৬ সেপ্টেম্বর এতিমখানার ১৩ জন স্থায়ী সদস্যের সদস্যপদ বাতিল করে।
স্যার সলিমুল্লাহ্ এতিমখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০০৩ সালের ৩ জুলাই এতিমখানার নির্বাহী কমিটি এতিমদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে সাড়ে ৮ বিঘা জমি একটি ডেভেলপার কোম্পানিকে যৌথ উন্নয়নের নামে প্রদান করে। চুক্তি অনুযায়ী ওই জমিতে নির্মাণ করা ভবনের ১২ ভাগ মালিক হবে এতিমখানা। বাকি ৮৮ ভাগ ভবনের মালিক ডেভেলপার কোম্পানি। এছাড়া চুক্তি স্বাক্ষর বাবদ মাত্র ৩০ লাখ টাকা দেওয়া হয় এতিমখানা কর্তৃপক্ষকে। জোট সরকারের আমলে এমন অসম চুক্তি কারণে ২০০৭ সালের অক্টোবর মাসে এতিমখানার শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে। এর প্রেক্ষিতে সমাজসেবা অধিদফতর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে এতিমখানার পরিচালনা কমিটির ব্যাপক দুর্নীতির চিত্র বের হয়ে আসে। ২০০৯ সালে ওই জমির ওপর ১৮ তলা ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করে ডেভেলপার কোম্পানি। পরে ২০১৩ সালে এতিমখানার চার জন শিক্ষার্থী উচ্চ আদালতে অসম চুক্তির বিরুদ্ধে রিট করে।
এই রিটের পক্ষে আমমোক্তার নিযুক্ত করা হয় এতিমখানার শিক্ষার্থী মো. হারুন অর রশিদকে। ২০১৫ সালে হাইকোর্ট নির্মাণ করা ১৮ তলা ভবন বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে। এই চুক্তি সম্পাদনের সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত। ২০২২ সালের ৯ জুন হাইকোর্টের ওই আদেশ আপীল বিভাগ বহাল রাখে। গত ৩১ আগস্ট ঢাকা জেলা প্রশাসক নির্মাণ করা ১৮ তলা ভবনটি এতিমখানার কাছে হস্তান্তর করেন।
