রোববার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা

নোটিশের জবাব না পেয়ে রিট দায়েরের সিদ্ধান্ত জজ মিয়ার

  • দশ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চান জজ মিয়া
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২০:৪৪

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের আমলে সাজানো হয়েছিলো জজ মিয়া নাটক। সময়ের আবর্তে সেই নাটকের বিষয়বস্তু দেশের জনগণের সামনে প্রকাশ পেয়ে যায়। ধরা পড়ে মূল অপরাধীরা। সেই সাজানো জজ মিয়া নাটকের ঘটনায় দশ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে বিবাদীদেরকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছিলো। কিন্তু নোটিশের জবাব না পেয়ে রিট দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) আদালতের অনুমতি নিয়ে রিট দাখিলের করা হবে বলে ইত্তেফাককে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব। তিনি বলেন, ‘নোটিশের জবাব না পেয়ে রিট দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

গত ১১ আগস্ট জজ মিয়ার পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব ও মোহাম্মদ কাউছার স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক আইজিপি খোদাবক্স চৌধুরী, তৎকালীন এএসপি আব্দুর রশিদ, তৎকালীন এএসপি মুনশি আতিকুর রহমান এবং তৎকালীন বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিনসহ ১১ জন বরাবরে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।

নোটিশে জজ মিয়া নাটক সাজানোর পেছনে জড়িত ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণের অনুসন্ধান কমিটি গঠনের পাশাপাশি যাদের দায় পাওয়া যাবে তাদের কাছ থেকে ওই ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করে জজ মিয়াকে দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি লুৎফুজ্জামান বাবরসহ জড়িত ব্যক্তিদের স্থাবর সম্পত্তি জব্দের আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের ডাকা সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালায় হুজির জঙ্গিরা। সেই হামলায় তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মারাত্মকভাবে আহত হন। নিহত হন মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ নেতা-কর্মী। আহত হন অনেকে। এ ঘটনায় করা মামলায় তৎকালীন সরকার ও পুলিশ প্রশাসন জজ মিয়া নাটক সৃষ্টি করেন। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মামলাটি নতুন করে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন প্রকাশ পায় জজ মিয়া নাটকের। পরে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। 

পরে এই মামলায় ২০১৮ সালে দেয়া রায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়। আর বিএনপির সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১। 

রায়ে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিলো। আর জঙ্গিরা ওই হামলা চালায় তারেক রহমানের আশ্বাসেই। তৎকালীন প্রশাসনের প্রশাসনিক সহায়তাও পেয়েছিল জঙ্গিরা। 

ইত্তেফাক/এএএম