রিকশাচালক কামালের প্রশ্ন

‘কোথায় গেল আমার প্রতিবন্ধী ভাতা?’

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২১:০৭

পুরো রিকশা সবুজ কার্পেট দিয়ে মোড়ানো। রিকশার দিকে তাকালে তিনটি চাকা ছাড়া সবই সবুজ। নিজেও মাথায় পরেছেন সবুজ টুপি। রিকশার ওপরে কার্পেটের নৌকা, আর সামনের চাকার ওপরও শোভা পাচ্ছে নৌকা। এমন চারটি নৌকা দিয়ে সাজিয়েছেন তার রিকশা। রিকশার মধ্যে এমন ব্যতিক্রমী সাজসজ্জার কারণে সড়কের মধ্যে নজর কাড়ছে সবার। এটি প্রতিবন্ধী কামাল হোসেনের রিকশা। রাজধানী ঢাকার গুলশান-বনানী এলাকায় এ রিকশা চালান তিনি।

প্রতিবন্ধী কামাল হোসেন ও তার রিকশা। ছবি- ইত্তেফাক

সাধারণ রিকশায় তো এমন সাজসজ্জা থাকে না। তাহলে শুধু কি মানুষের নজর কাড়তে তিনি এমন ডিজাইন করেছেন নিজের রিকশাকে? এমন প্রশ্ন করতেই জানালেন তার কষ্টের কথা। জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী বলে জানান তিনি। কোনো কাজ করতে পারেন না। নেত্রকোনায় বাড়ি তার। প্রায় ২৭ বছর আগে ঢাকায় এসেছেন। ঢাকায় এসে উঠেন রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে। সেখানেই বেড়ে ওঠা। পরে কিছু টাকা জমিয়ে একটি রিকশা কেনেন। আট বছর হলো তিনি রিকশা চালান। ব্যাটারিচালিত রিকশা হওয়ার কারণে সড়কে উঠলে প্রায়শই পুলিশ ধরে।

এই কারণে তিনি সবুজ কার্পেট ও জিআই তার দিয়ে গত আট মাস আগে এই রিকশা সাজিয়েছেন। এভাবে রিকশা সাজানোর কারণে এখন আর তাকে পুলিশ ধরে না, আবার ধরলেও ছেড়ে দেয় বলে তিনি জানান। কামাল হোসেনের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের দেখা হয় কাওরান বাজারে। তিনি জানান, আমি মূলত গুলশান এলাকায় রিকশা চালাই এখানে একটা ভাড়া নিয়ে এসেছি। আমি একজন প্রতিবন্ধী। কাজ করতে পারি না। কত জনের কাছে গিয়েছি একটা প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের জন্য। কিন্তু কেউ দেয়নি। সরকার প্রতিবন্ধীদের সহযোগিতা করে, তাহলে আমার প্রতিবন্ধী ভাতা গেল কোথায়? 

প্রতিবন্ধী কামাল হোসেন ও তার রিকশা। ছবি- ইত্তেফাক

তিনি আরও বলেন, নিজের জেলায় উপজেলা চেয়ারম্যানসহ অনেকের কাছে গিয়েছিলাম কার্ডের জন্য। কিন্তু দিন মাস বছর যায়, কার্ড আর দেয়  না। তাই আর এর পেছনে না ঘুরে রিকশা চালিয়ে খাই। এখন নিজের সংসার হয়েছে। আমার তিন ছেলেমেয়ে। সবাই পড়াশুনা করে। বড় ছেলেটা উচ্চমাধ্যমিকে পড়ে। এভাবেই জীবন কেটে যাচ্ছে। কষ্ট করলেও আনন্দ পাই এই ভেবে যে কাজ করে নিজের জীবন নিজে চালাচ্ছি।

রিকশার সাজসজ্জার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি কোনো ভাতা বা সহযোগিতা না পেলেও বঙ্গবন্ধু ও নৌকার প্রতি আমার ভালোবাসা আছে। তাই নিজের রিকশায় নৌকার এমন ডিজাইন করেছি। এই সাজের কারণে এখন আমার রিকশায় অনেক যাত্রী বেড়ে গেছে। সবাই রিকশায় উঠতে চায়, ছবি তোলে। আমার খোঁজখবর জিগ্যেস করে। ব্যাপারটা আমার কাছে ভালোই লাগে।

ইত্তেফাক/এমএএম