রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আরও ২ লাখ ইভিএম কিনতে যাচ্ছে ইসি

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:০১

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আরও ২ লাখ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কিনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে ৮ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। আগামী নির্বাচনে ১৫০ আসনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য এই মেশিন কেনা হচ্ছে। নতুন প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আজ মঙ্গলবার বৈঠকের আহ্বান করেছে ইসি।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইভিএমের নতুন প্রকল্প প্রস্তাব বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রাখা হয়েছে। বেলা ১১টায় নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ অন্য নির্বাচন কমিশনার ও ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। আলোচনায় প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে প্রকল্প অনুমোদনের জন্য। 

রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত উপেক্ষা করে গত ২৩ আগস্ট আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১৫০ আসনে ইভিএমে ভোট করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন ইসির হাতে দেড় লাখের মতো ইভিএম আছে। তা দিয়ে ৭০-৮০টি আসনে ভোট করা যাবে। ১৫০ আসনে ইভিএমে ভোট করতে হলে আরও প্রায় ২ লাখ ইভিএম প্রয়োজন হবে। এর আগে যে দেড় লাখ ইভিএম কেনা হয়েছিল, সেই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা। এবার ব্যয় আরও বাড়বে।

এ বিষয়ে ইভিএম প্রকল্পের পরিচালক কর্নেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান বলেন, ইসি সচিবালয় থেকে একটি ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। আগের প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এবার তার চেয়ে কিছুটা খরচ বাড়বে। আগে প্রতিটি ইভিএমের যে মূল্য ছিল, তা বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

প্রকল্প পরিচালক বলেন, ইসি সচিবালয় যাতে নিজস্ব জনবল ও সক্ষমতায় ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ, ইভিএম সংরক্ষণ করতে পারে, সেই বিষয়গুলোও প্রকল্পে থাকছে। এর জন্য জনবল, ওয়্যারহাউজের প্রয়োজন হবে। তিনি বলেন, আগের দেড় লাখ এবং নতুন প্রকল্পে কেনা হবে ২ লাখ—সব মিলে সাড়ে তিন লাখ ইভিএম ইসির হাতে থাকবে। ইভিএম সংরক্ষণ করতে ১০টি ওয়্যারহাউজ নির্মাণের প্রাথমিক চিন্তা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডলারের বাড়তি দাম, জনবল প্রশিক্ষণ এবং ইভিএম সংরক্ষণের জন্য ওয়্যারহাউজ নির্মাণ করতে মোট ব্যয় আগের প্রকল্পের চেয়ে অনেক বেড়ে যাবে। আগে প্রতিটি ইভিএমে সব মিলে ব্যয় হয়েছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। এবার ইভিএমের দামও কিছুটা বাড়বে।

জাতীয় নির্বাচন ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। তাই প্রকল্প দ্রুত পাস না হলে ১৫০ আসনে ইভিএমের ভোট করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার সময় আর থাকবে না নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটির হাতে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য তাড়াহুড়া করে নতুন প্রকল্প অনুমোদনের জোর চেষ্টা চলছে।

ইত্তেফাক/ইআ