শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

‘এসিল্যান্ড স্যারের সব টিকিট লাগবে’­

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:০২

ট্রেনের টিকিট কাটতে গিয়েছিলেন এক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। টিকিট চাইলে রেল স্টেশনের কাউন্টারে দায়িত্বরত নারী ও তার ঊর্ধ্বতন অফিসার বলেন, ‘টিকিট নেই, সব টিকিট এসিল্যান্ড স্যারের লাগবে’। মর্মাহত হয়ে ঐ শিক্ষক চিঠি আকারে ঘটনাটি লেখেন। চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। 

ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশনে। ভুক্তভোগী ব্যক্তি নওগাঁ জেলা শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেডি উচ্চবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোবারক আলী শেখ। একটি ওষুধ কোম্পানির প্যাডে তার নিজহাতে লেখা খোলা চিঠি পোস্ট করেছেন ফেসবুকে। পরে সেটি ভাইরাল হয়ে যায়।

চিঠিতে লেখেন : ১১ সেপ্টেম্বর। সান্তাহার রেলওয়ে টিকিট কাউন্টার। দাঁড়িয়েছি সকাল ৬টা ২২ মিনিটে। এক নম্বর কাউন্টারে আমি প্রথম ব্যক্তি। আশা ছিল দুটা টিকিট পাব, এসি স্নিগ্ধা। ১৫ সেপ্টেম্বরের, ট্রেন কুড়িগ্রাম। ৮টায় টিকিট কাউন্টার খোলা হলো। টিকিট যিনি দিচ্ছেন উনি একজন মহিলা। বললাম, ‘মা’ আমাকে এসি দুটি টিকিট দেন। ওনার ওপরের বস একজন, যিনি টিকিট কাউন্টারের হেড। তার নির্দেশ মোতাবেক আমাকে টিকিট না দিয়ে, এসি স্নিগ্ধার সব টিকিট তার বসকে দিয়ে দিলেন। আমি কয়েক বার তাদের অনুরোধ করেও ব্যর্থ হয়েছি। আমার বয়স ৬৫ বছর পেরিয়েছে। আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। বসের কথা, রাণীনগরের এসিল্যান্ড স্যারের সব টিকিট লাগবে। তাই তিনি আমাকে দুটা টিকিট (এসি স্নিগ্ধা) দিতে পারবেন না। আমি অনেক দুঃখ পেয়েছি। কষ্ট পেয়েছি। বুঝাতে পারছি না নিজের মনকে। কাউন্টার থেকে বেরিয়ে বাসায় আসলাম। মোবারক আলী শেখ, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, নওগাঁ কেডি উবি।

কেডি উচ্চবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোবারক আলী শেখের লেখা সেই চিঠি

এ বিষয়ে নওগাঁর রাণীনগরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাফিজুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের ঐ ট্রেনের স্নিগ্ধা শ্রেণির এসি চেয়ারের তিনটা টিকিট একজনের মাধ্যমে কিনিয়েছেন বলে জানান। এদিকে, সান্তাহারে ঐ ট্রেনের ঐ শ্রেণির এসি চেয়ারের বরাদ্দ মোট টিকিট ১৫টি। এর মধ্যে কাউন্টার টিকিট আটটি।  

এ বিষয়ে সান্তাহার রেলওয়ে টিকিট কাউন্টারের হেড বুকিং মোমিনুল করিম মুনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দুই কাউন্টার দিয়ে টিকিট বিক্রি চলছিল। ঐ শিক্ষক এক নম্বর কাউন্টারে ছিলেন। সে সময় ঐ কাউন্টারে টিকিট ছিল না।

 

ইত্তেফাক/ইআ