বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ: বিক্রম দোরাইস্বামী 

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২৩:৫৩

ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফর খুবই সফল এবং অত্যন্ত ফলপ্রসূ। বাণিজ্য, সংযোগ ও পানি ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নেওয়া এবং বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়ানো। যত বাণিজ্য বাড়বে তত সহযোগিতা সুদূর হবে।
 
বাংলাদেশে প্রায় দুই বছরের দায়িত্ব পালন শেষে ঢাকা ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশানে ওল্ড ইন্ডিয়া হাউসে তিনি এই মতবিনিময় করেন। বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের বিষয়ে তিনি বলেন, অভিন্ন নদীর পানি ইস্যুতে বড় অগ্রগতি হয়েছে। যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) আবারো কার্যকর হয়েছে। গঙ্গা চুক্তির ২৬ বছর পর দুই প্রধানমন্ত্রীর সদ্বিচ্ছায় কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টনে সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। এটা ইতিবাচক দিক।

বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, গত বছর ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেছেন।দুই দেশের ৫০ বছর পূর্তি ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং মুজিব বর্ষ উদযাপনের সময়ই এতো উচ্চ পর্যায়ের সফর হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করেছেন। এসব সফরে আগামী ২৫ বছরে দুই দেশের সম্পর্কের ভিত রচিত হয়েছে। সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে। 

ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীর  দুই বছরের দায়িত্ব পালন শেষ উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকরা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। অনেক বিষয় সম্পর্কে সমঝোতা হয়েছে। যার ফলে ভবিষ্যতে দুই দেশের মানুষ সুফল পাবে। আঞ্চলিক, অর্থনৈতিক, সড়ক ও রেলের ক্ষেত্রে উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের পাশে থাকবে ভারত। এর বাইরে দুই দেশের মধ্যে সমুদ্র পথে সংযোগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সমন্বিত অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তির (সেপা) ব্যাপারে চলতি বছরই কাজ শুরু হবে। এতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আশানুরুপ ফল পাওয়া যাবে। বিদায়ী হাইকমিশনার বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে ভারত সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। আমরা অব্যাহতভাবে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন চাই।  

তিনি জানান, আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য জি-২০ সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে ভারত। ২০২৩ সালে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এই সম্মেলন হবে। বাংলাদেশকে প্রতিবেশী দেশের অংশীদারিত্বের কারণে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশ-সহ আটটি দেশকে অতিথি করা হচ্ছে। যা অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আরও ইতিবাচক হিসেবে কাজ করবে।

বিক্রম দোরাইস্বামী আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা ত্যাগ করবেন। ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনারের দায়িত্ব নিয়ে ঢাকা আসেন। তিনি যুক্তরাজ্যে ভারতের হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। গতকাল তিনি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাত করেন। 

ইত্তেফাক/ইআ